কোন শিক্ষা বোর্ডে কত জিপিএ-৫

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল

১৭

পরীক্ষা ছাড়াই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শনিবার (৩০ জানুয়ারি) গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এসময় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, শিক্ষা সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান ছাড়াও বিভিন্ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তার সামনে থাকা বাটন চেপে এ ফলাফল ঘোষণা করেন। এর আগে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানদের নিকট থেকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে ফলাফল গ্রহণ করেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।
করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে বিশেষ পদ্ধতিতে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এবার ১ লাখ ৬১ হাজার ৮০৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। গত বার এই সংখ্যা ছিল ৪৭ হাজার ২৮৬। তার আগের বছর ছিল ২৯ হাজার ২৬২। সে হিসাবে এবার জিপিএ-৫ বেড়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫২১। এবার ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯২৬ জন শিক্ষার্থী, চট্টগ্রামে ১২ হাজার ১৪৩, রাজশাহীতে ২৬ হাজার ৫৬৮, যশোরে ১২ হাজার ৮৯২, কুমিল্লায় ৯ হাজার ৩৬৪, ময়মনসিংহে ১০ হাজার ৪০, বরিশালে ৫ হাজার ৫৬৮, সিলেটে ৪ হাজার ২৪২, দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে ১৪ হাজার ৮৭১ জন।

এছাড়া মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডে ৪ হাজার ৪৮ জন ও কারিগরীতে ৪ হাজার ১৪৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। শনিবার একযোগে ১১টি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। এবার মহামারীর মধ্যে পরীক্ষা ছাড়া সব শিক্ষার্থীকে পাস করানো হলো। এইচএসটি ও সমমানে গত বার পাসের হার ছিল ৭৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। তার আগের বছর ছিল ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
এর আগে, পরীক্ষা কেন্দ্রে কোনো ফল পাঠানো হবে না জানিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেছেন, ফল পেতে যারা রেজিস্ট্রেশন করেছেন তাদের মোবাইলেই ফলাফল পৌঁছে যাবে। আজ শনিবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় এইচএসসি ও সমমানের মূল্যায়নের ফলাফল ঘোষণার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে যুক্ত আছেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার ফলাফল অনলাইনে প্রকাশিত হবে। পরীক্ষা কেন্দ্রে অথবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ফল পাঠানো হবে না। রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে অথবা মুঠোফোনের খুদেবার্তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ফলাফল পেতে পারবে।
এইচএসসির ফল পেতে শুরু হয়েছে প্রি-রেজিস্ট্রেশন। রেজিস্ট্রেশন করে ঘরে বসেই শিক্ষার্থীরা ফল সংগ্রহ করতে পারবেন। বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রি-রেজিস্ট্রেশন করার আহ্বান জানিয়েছে টেলিটক। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২০ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলের প্রি-রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে। রেজিস্ট্রেশন করতে হবে মোবাইলের ম্যাসেজ অপশনে গিয়ে। প্রি-রেজিস্ট্রেশন করতে HSC লিখে স্পেস দিয়ে শিক্ষা বোর্ডের নাম দিয়ে স্পেস দিয়ে রোল লিখে স্পেস দিয়ে ২০২০ লিখে ১৬২২২ নম্বরে পাঠিয়ে দিতে হবে।

ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই প্রি-রেজিস্ট্রেশন করা পরীক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বরে ফলাফল পৌঁছে যাবে। এ ছাড়া ওয়েবসাইট (www.educationboardresults.gov.bd) থেকে ফল দেখা যাবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও ফল জানা যাবে।
উল্লেখ্য,২০২০ সালে ১১ শিক্ষা বোর্ডের ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ শিক্ষার্থীর এবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল ১লা এপ্রিল থেকে। কিন্তু করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে শুরু করলে ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পঞ্চম ও অষ্টমের সমাপনীর মতো এইচএসসি পরীক্ষাও নেওয়া যাচ্ছে না। গত ৭ই অক্টোবর এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী জানান, অষ্টমের সমাপনী এবং এসএসসির ফলাফলের গড় করে ২০২০ সালের এইচএসসির ফল নির্ধারণ করা হবে। জেএসসি-জেডিসির ফলাফলকে ২৫ এবং এসএসসির ফলকে ৭৫ শতাংশ বিবেচনায় নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকের ফল ঘোষিত হবে।
কিন্তু আইনে পরীক্ষা নিয়ে ফল প্রকাশের বিধান থাকায় তা সংশোধন করে বিশেষ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা ছাড়াই ফল প্রকাশের বিধান যুক্ত করতে হয়েছে, যা গত সপ্তাহে জাতীয় সংসদের অনুমোদন পায়। গেল বছরের পহেলা এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা। কিন্তু তার আগেই করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ছড়িয়ে পড়ায় স্থগিত হয়ে যায় পরীক্ষা। শেষপর্যন্ত পরীক্ষা নেয়া সম্ভব না হওয়ায় অটোপাশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। অটোপাশের ক্ষেত্রে, অষ্টমের সমাপনী এবং মাধ্যমিকের ফলাফলের গড় করে ২০২০ সালের এইচএসসির ফল নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.