কে হাসবে শেষ হাসি ‘নৌকা’ নাকি ‘ধানের শীষ’

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি :
উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে কাল শনিবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নন্দীগ্রাম পৌরসভার নির্বাচন। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন করতে নেয়া হয়েছে সব ধরনের প্রস্তুতি। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ নাকি বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী মেয়র হচ্ছেন- এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই।

পৌরবাসীর পাশাপাশি পুরো উপজেলার নজর এখন এই নির্বাচনের দিকে। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীন ভোট গ্রহণ চলবে। ভোট গণনা শেষে কেন্দ্রে ফল ঘোষণার পাশাপাশি উপজেলা পরিষদে কন্ট্রোল রুম থেকেও ফল ঘোষণা করা হবে। নির্বাচনকে ঘিরে পুরো পৌরসভাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। মাঠে কাজ করছে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা।

নন্দীগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পৌর আ’লীগের সভাপতি আনিছুর রহমান (নৌকা), বিএনপি মনোনীত প্রাার্থী পৌর বিএনপির সদস্য সাবেক মেয়র সুশান্ত কুমার শান্ত (ধানের শীষ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল (জগ)। এছাড়া পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ২৭ ও সংরক্ষিত নারী আসনে ১৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

তবে মূল আলোচনায় রয়েছেন আওয়ামী লীগের আনিছুর রহমান ও বিএনপির সুশান্ত কুমার। ভোটাররা বলছেন, বড় কোনো অঘটন না ঘটলে এই দু’জনের একজনই বসতে যাচ্ছেন পৌসভার মেয়রের চেয়ারে। তবে প্রচারের শেষদিন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোন অঘটন ঘটেনি। নির্বাচনকে ঘিরে যাতে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সুশান্ত কুমার শান্ত বলেন, আমার কর্মী-সমর্থকদের হুমকি-ধামকি দেয়া হচ্ছে। ‘ভোট নিয়ে একটা শঙ্কা আছে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে অনেক ভোটেই আমি জয়ী হব।

তবে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনিছুর রহমান জয়ের বিষয়ে আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সারাদেশে যেভাবে উন্নয়ন করছে তাতে নন্দীগ্রাম পৌরসভার উন্নয়নের স্বার্থেই ভোটাররা নৌকার প্রার্থীকেই ভোট দেবে। শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটগ্রহন সম্পন্ন হবে বলে আমি আশা করছি। আমি চাই, নির্বিঘেœ ভোটাররা ভোট দিতে আসুক।’

পৌরসভায় ৯টি ওয়ার্ডে ১৫ হাজার ৯৭৩ জন ভোটার রয়েছেন। এরমধ্যে পুরুষ ৭ হাজার ৬৪৪ জন এবং মহিলা ৮ হাজার ৩২৯ জন। পৌরসভার নয়টি ওয়ার্ডে মোট ৯ টি কেন্দ্রের ৪৫ টি বুথে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনে ৯ কেন্দ্রে একজন করে ৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৪৫ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৯০ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। পৌরসভায় ৯টি কেন্দ্রে ৪৫ টি বুথে ব্যালট পেপারে ভোট নেওয়া হবে। এর মধ্য ৫টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহিৃত করা হয়েছে। নির্বাচনে মেয়র পদে ৩ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২৭ জন ও সংরক্ষিত মহিলা আসনে ১৪ জন প্রার্থী অংশ নিয়েছেন। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ১জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে। এছাড়া ২ প্লাটুন বিজিবিসহ স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে র‌্যাব ও পুলিশ মোতায়েন থাকবে।

পৌরসভা নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ভোটগ্রহণের সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্বাচনের সকল সরঞ্জাম প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। ভোটের দিন কেন্দ্রে কেন্দ্রে ব্যালট পাঠানো হবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.