নন্দীগ্রামে শেষ প্রচারে মরিয়া প্রার্থীরা আজ মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে প্রচার

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌরসভা নির্বাচন ভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) মধ্যরাতে শেষ হচ্ছে নন্দীগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনের সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা। তবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন ভোটাররা।
জানা গেছে, তৃতীয় ধাপে আগামী শনিবার (৩০ জানুয়ারি) নন্দীগ্রাম পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী পৌর আ’লীগের সভাপতি আনিছুর রহমান (নৌকা), বিএনপি মনোনীত প্রাার্থী পৌর বিএনপির সদস্য সাবেক মেয়র সুশান্ত কুমার শান্ত (ধানের শীষ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র কামরুল হাসান সিদ্দিকী জুয়েল (জগ)। এছাড়া পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ২৭ ও সংরক্ষিত নারী আসনে ১৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন। মোট ভোটার সংখ্যা ১৫ হাজার ৯৭৩ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৭ হাজার ৬৪৪ জন এবং মহিলা ৮ হাজার ৩২৯ জন। নির্বাচনে ৯টি ভোট কেন্দ্রে ৯জন প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাডিং অফিসার ৪৫ জন ও ৯০ জন পোলিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচারণার ইতি টানতে হবে আজই। তাই শেষ মুহূর্তে আওয়ামী লীগ-বিএনপি মেয়র প্রার্থীসহ কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারণা তুঙ্গে উঠেছে। ব্যাপক উৎসাহ, উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে পৌর শহরে। তীব্র শীতের মধ্যেও প্রচার থেমে নেই প্রার্থীদের। ঘুম হারাম করে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকেরা ভোটারদের দোরগোড়ায় ছুটছেন। ভোটারদের মন জয়ের প্রতিযোগিতায় কেউ কাউকে ছাড় দিতে চান না। ভোটে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে মাঠে নামছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

বিধি অনুযায়ী, কোনও নির্বাচনি এলাকার ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৩২ ঘণ্টা, ভোটগ্রহণের দিন সকাল ৮টা থেকে রাত ১২টা এবং ভোটের দিন রাত ১২টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা অর্থাৎ সমন্বিতভাবে ৩০ জানুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা হতে ৩ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় কোনও ব্যক্তি কোনও জনসভা আহ্বান, অনুষ্ঠান বা তাতে যোগদান এবং কোনও মিছিল বা শোভাযাত্রা করতে বা তাতে অংশ নিতে পারবেন না। ওই সময়ে কোনও আক্রমণাত্মক কাজ বা বিশৃঙ্খলামূলক আচরণ করতে পারবেন না। ভোটার বা নির্বাচনি কাজে নিয়োজিত বা দায়িত্বরত কোনও ব্যক্তিকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা যাবে না। কোনও অস্ত্র বা শক্তিও প্রদর্শন বা ব্যবহার করতে পারবেন না কেউ।

নন্দীগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ভোট কেন্দ্রে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত করা হবে। তাছাড়া বিজিবি, র‌্যাব, আনসার ব্যাটেলিয়ন সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. আব্দুস সালাম জানান, আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে শেষ হচ্ছে সব ধরনের প্রচার-প্রচারণা। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে ভোটগ্রহণের সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.