নন্দীগ্রামে খুরা রোগে ৩০ গরুর মৃত্যু!

৬০

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি :
বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় গবাদি পশুর খুরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গেল দুই সপ্তাহে এই রোগে অন্তত ৩০ টি গরুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আরও বেশকিছু গরু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এমনকি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়ার পরও এই রোগে আক্রান্ত পশুকে বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে এই উপজেলার মানুষ তাদের গবাদি পশু নিয়ে চরম দুশ্চিতায় পড়েছেন।
স্থানীয়রা জানায়, হঠাৎ করেই নন্দীগ্রাম উপজেলার চাঁনপুর, তেঘর, ডেরাহার, নন্দীগ্রাম সদর, পান্তাগাড়ী, গুন্দইল, হাটুয়া, বিজয়ঘাটসহ বিভিন্ন গ্রামে গবাদি পশুর মধ্যে খুরা রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। গত দুই সপ্তাহে পৌর শহরের দক্ষিণপাড়ার জাইদুল ইসলামের একটি, মিন্টু মিয়ার একটি, উপজেলার ডেরাহার গ্রামের ইসমাঈল হোসেনের তিনটি, পান্তাগাড়ী গ্রামের নরেশ চন্দ্রের একটি, রিধইল গ্রামের আকবর আলীর একটিসহ ৩০ টি গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি গরুর অবস্থা খুবই গুরুতর বলে জানা গেছে। খুরা রোগ দেখা দেওয়ায় আতংকিত হয়ে পড়েছেন গরু পালন কারীরা। আর আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় অনেকটা দিশেহারা তারা।

ভুক্তভোগী কৃষক নরেশ চন্দ্র জানান, প্রথমে গরুর পায়ে ক্ষতচিহ্ন দেখা যায়। এরপর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। মুখ দিয়ে লালা ঝরে। রোগাক্রান্ত গরুটি হাঁটাচলা করতে পারে না। কোনো প্রকার খাবার খেতে পারে না। স্থানীয়ভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চিকিৎসকের মাধ্যমে দেওয়া হয় ভ্যাকসিন। এরপরও এই রোগে আক্রান্ত গরুকে বাঁচানো যাচ্ছে না।
উপজেলার চাঁনপুর গ্রামের পশু পালনকারী তরুন কুমার বলেন, তার খামারে ষাঁড় ও গাভী মিলিয়ে ১৭ টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে ৯ টি গরু খুরা রোগে আক্রান্ত হয়। অবশেষে একটি গরু মারা গেছে। তার গ্রামে প্রায় ১৫ টি গরু মারা গেছে। এতে করে গরু পালনকারীরা দিশেহারা পয়ে পড়েছে। তবে খুরা রোগে গরু আক্রান্ত হলেও সরকারি কোন চিকিৎসক চিকিৎসা দিতে আসেনি বলে তিনি দাবি করেন।
উপজেলার রিধইল গ্রামের পশু পালনকারী আকবর আলী বলেন, আমাদের গ্রামের প্রায় সব বাড়ির গরুর-বাছুর এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। আমার ৪ টি গরুর মধ্যে ১টি গরু মারা গেছে।

এদিকে একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম একেবারেই ভেঙ্গে পড়েছে। রোগাক্রান্ত পশুর ব্যাপারে পরামর্শ নিতে অনেক সময় সরকারি প্রাণিসম্পদ অফিসে গিয়েও সময়মত কাউকে পাওয়া যায় না। এই সময়েও বাণিজ্যিকভিত্তিতে পশুর চিকিৎসা দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত থাকেন বলে তারা অভিযোগ করেন।
জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা.অরুনাংশু মন্ডল বলেন, খুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে গরু মারা গেছে। তবে ভয়ের কিছু নেই। তারা মাঠ পর্যায়ে খুরা রোগ প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছেন। এছাড়া চাহিদার তুলনায় খুরা রোগের ভ্যাকসিন অপ্রতুল রয়েছে। তারপরেও আক্রান্ত পশুগুলোর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.