তানোরে মুণ্ডুমালা নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পোষ্টার ছেড়ার অভিযোগ

তানোর প্রতিনিধি: আসন্ন তৃতীয় ধাপের পৌরসভা নির্বাচনে রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা পৌরসভায় স্বতন্ত্র জগ প্রতীকের প্রার্থী সাইদুর রহমান নৌকার প্রার্থী আমির হোসেন আমিনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পোষ্টার ছেড়া, হুমকি ধামকি, বহিরাগত গুণ্ডা বাহিনী দিয়ে প্রচার মাইকিং করা ব্যক্তি, মহিলা কর্মীদের ও প্রার্থীকে অকাথ্য ভাষায় গালমন্দ এবং বেশ কিছু কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
গত শনিবার ও রোববার পরপর সুনির্দিষ্ট ভাবে ছয়টি লিখিত অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা সুশান্ত কুমার মাহাতো বরাবর দিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা নির্বাচন অফিসার, থানা অফিসার ইনচার্জ ও উপজেলা নির্বাচন অফিসারকেও দেয়া হয়েছে। এতে করে ভোটের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই যেন উত্তপ্ত হয়ে উঠছে পৌর এলাকা। ফলে সাধারন ভোটারদের মাঝে এক প্রকার ভীতিও কাজ করছে।

গত শনিবারে তিনটি অভিযোগ দেয়া হয় সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী উল্লেখ করেন, মুণ্ডুমালা পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নৌকা সমর্থিত বিভিন্ন ইউনিয়ন ও উপজেলা হতে বহিরাগত জনপ্রতিনিধিগণ যথা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়না, ভাইস চেয়ারম্যান অনুপ্রবেশ কারী আবু বক্কার, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সোনিয়া সরদারসহ, কলমা ইউপির চেয়ারম্যান মাইনুল ইসলাম স্বপন, পাচন্দর ইউপির চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন, বাধাইড় ইউপির চেয়ারম্যান আতাউর বহমানরা বহিরাগত ব্যক্তিদের নিয়ে পৌর এলাকার পাড়া মহল্লায় জগ প্রতীকের ভোটার ও নেতাকর্মীদের গালি গালাজ, অশালীন বক্তব্য, হুমকি ধামকি দিয়ে পরিষ্কার ভাবে বলছেন গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যে ভাবে ফলাফল আমাদের করে নিয়েছি ঠিক একই কায়দায় ৩০ জানুয়ারির মুণ্ডুমালা পৌরসভা ভোটে নৌকার পক্ষে রায় ছিনিয়ে নিয়ে যারা জগ প্রতীকের জন্য ভোট করেছে তাদেরকে শায়েস্তা করা হবে।

গত ২২ জানুয়ারি তারিখে ৩নং ওয়ার্ড চুনিয়াপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নৌকার পক্ষে প্রচারণায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন জগ প্রতীকে ভোট দিয়ে লাভ হবেনা, দিলেও লাভ হবেনা। একই দিনে জগ প্রতীকের প্রচারণার মাইকিং অপারেটর রমজান আলীকে মুণ্ডুমালা বাজারে দাড় করিয়ে সাদিপুর গ্রামের কাশেম আলীর পুত্র ওয়াসিম গালি গালাজ করে হুমকি প্রদান করে নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্য হুশিয়ারি দেন। এছাড়াও মুণ্ডুমালা সরকারী উ”চ বিদ্যালয়, মুণ্ডুমালা মহিলা দাখিল মাদ্রাসা, মহিলা ডিগ্রী কলেজ ও জোত গরিব সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
এর জের না কাটতেই রোববার আরো তিনটি অভিযোগ দেয়া হয়েছে সেখানে উল্লেখ, গত ২৩ জানুয়ারি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে ৩০/৪০টির মত মটরসাইকেল পাড়া মহল্লায় গিয়ে ঘোষণা দিচ্ছেন আগামী ২৭ জানুয়ারির পর জগ প্রতীকের কোন নির্বাচনী অফিস থাকবে না, একই দিনে ময়েনপুর গ্রামে তারই সামনে জগ প্রতীকের পোষ্টার ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং রোববার সকাল ১১ টার দিকে জগ প্রতীকের মহিলা কর্মীদের সাতপুকুরিয়াগ্রামের সোহরাব আলীর পুত্র ইকবাল নানা ধরণের অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করেন এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের নির্দেশে শিক্ষকদেরও নৌকা প্রতীকের জন্য কাজ করতে কঠোর আদেশ জারী করেছেন বলেও উল্লেখ ।
স্বতন্ত্র জগ প্রতীকের প্রার্থী সাইদুর রহমান জানান আমার প্রচুর জনপ্রিয়তা দেখে তাঁরা কোন দিশা না পেয়ে বহিরাগতদের এনে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের গুণ্ডা বাহিনী দিয়ে বেপরোয়া ভাবে হুমকি গালমন্দ করছেন। যার কারনে শান্তিপূর্ণ ভোটের মাঠ নষ্ট হয়ে পড়ছে। সবার অধিকার আছে ভোটে প্রার্থী হওয়ার। অযথা ক্ষমতার দাপটে মানুষের মন জয় করা যায়না। আমি চাইব অভিযোগের সঠিক তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং ভোটের মাঠ যেন শান্তিপূর্ণ থাকে।

এসব বিষয়ে জানতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর হায়দার রশিদ ময়নার মোবাইলে ফোন দেয়া হলে বন্ধ পাওয়া যায়। উপজেলা নির্বাচন অফিসার সুস্মিতা রায় জানান অভিযোগ পাওয়া গেছে যতযথ ব্যব¯’া নেওয়ার জন্য জায়গা মত দেয়া হয়েছে বলে রিটার্নিং কর্মকর্তার সাথে কথা বলার পরামর্শ দেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতোর মোবাইলে ফোন দেয়া হলে তিনি জানান ২৪ ঘণ্টা নির্বাচনী এলাকায় ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন আছে, অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্বসহ কারে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন আইন সবার জন্য সমান ভোটের মাঠে যারাই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাবে কাউকে ছাড় দেওয়া হবেনা।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.