ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরিষার চাষের বিকল্প নেই —কৃষিবীদ- ড. কামরুজ্জামান

৩৭

কয়রা প্রতিনিধি ঃশাহজাহান সিরাজ;;;;;;; মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রকল্প পরিচালক ড. এমএম কামরুজ্জামান বলেন, ধানের উৎপাদন না কমিয়ে বাড়তি ফসল হিসেবে সরিষা চাষ করলে দেশের কৃষিখাত বিরাট উপকৃত হবে। আমরা বছরে বিদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল আমদানি করি। এজন্য অনেক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। সরিষা চাষ বাড়ালে দাম নিয়ে সমস্যা হবে না। কৃষকরাও লাভবান হবেন। দেশের টাকা দেশেই থাকবে। তেলের ঘাটতি পূরনের জন্য দেশে তেল ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন। তাই ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরিষা চাষের বিকল্প নেই। সোমবার সকাল ১০ টায় খুলনা প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুনর রশিদের সভাপতিত্বে কয়রা উপজেলা বাগালী ইউনিয়নে উলা গ্রামে গোপালগঞ্জ জেলার বিএআরআই এর কৃষি গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন ও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ প্রতিবেশ উপযোগী গবেষণা কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় উপকুলীয় এলাকায় বিএআরআই উদ্বাবিত সরিষার বিভিন্ন জাতের উপযোগিতা যাচাই এর ্উপর মাঠ দিবসে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। খুলনার প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুনর রশিদ বলেন, তেল জাতীয় ফসলের মধ্যে সরিষা অন্যতম। এক সময় দেশের শতভাগ মানুষ সরিষার তৈল দিয়েই বিভিন্ন খাবার রান্না করে খেত। সে সময় মানুষের শরিরে নানা প্রকার অজানা রোগও কম হত। কালের বিবর্তনে গত কয়েক বছর ধরে কৃষক পর্যায়ে সরিষার আবাদ হ্রাস পাওয়ায় ব্যবসায়িরা বিভিন্ন ধরনের তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে দেশের বাজার বাজার সয়লাভ করে দেশ থেকে প্রচুর পরিমানে অর্থের অপচয় করেছেন। এ কারনে দেশের কৃষকরা সরিষা চাষে আগ্রহ হারাচ্ছে। তাই বাংলাদেশের সকল মানুষের স্বাস্থ্য এবং সকল কৃষকের লাভজনক কৃষি উৎপাদনের বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করেছেন উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষা বারি ১৪,১৫ ও ১৮। তিনি বলেন, বিশেষ করে বারি সরিষা ১৮ এর মধ্যে ইউরুসিক এসিড এর পরিমাণ একেবারেই কম থাকায় এটি মানব দেহের জন্য খুবই উৎকৃষ্ট মানের তেল। তাছাড়া অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি এসিডের পরিমান বেশী এবং খৈলে গেøাকোসিনুলেটর পরিমাণও ক্ষণতিকর মাত্রার চেয়ে কম । এমএলটি সাইট কয়রার বৈজ্ঞানিক সহকারি জাহিদ হাসানের পরিচালনায় মাঠ দিবসে বক্তব্য রাখেন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুস্তাফা কামাল শাহাদাৎ ও মুশফিকুর রহমান, কয়রা প্রেস কাবের সভাপতি এসএম হারুন অর রশীদ ও উপজেলা প্রেস কাবের সাবেক সভাপতি সদরউদ্দীন আহমেদ, কৃষক ফজলুল সরদার, তপন মন্ডল ও বিচিত্রা রানী। এসময় মাঠ দিবসে ২ শতাধিক কৃষক কৃষানী উপস্থিত ছিলেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.