কাউনিয়ায় হারাগাছে স্বপ্নের একতা সেতুতে মরন বাঁক

কর্তৃপক্ষ নিরব দর্শক

১০

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি :  কাউনিয়ায় হারাগাছ ইউনিয়নে মরা তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত স্বপ্নের একতা সেতুর উত্তর প্রান্তের সংযোগ সড়কে সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে এমন ভাবে মরণ বাঁক নির্মান হয়েছে এবং রাস্তা সংকীর্ণ হওয়ায় ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করতে পারলেও বাস, ট্রাক চলাচল করতে পারবে না আশংকা করছে এলাকাবাসী। সেই সাথে বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে অহরহ। এ কারণে উদ্বোধনের আগেই এলাকাবাসী সেতুতে সংযোগ সড়কটির মরন বাঁক পরিবর্তন করে ও রাস্তা প্রশস্ত করার দাবী জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নিকট। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) উপজেলা দপ্তর সূত্রে জানাগেছে ২ কোটি ৩৫ লক্ষ ২৯ হাজার ৪শ’৩৪ টাকা ব্যায়ে ৬০ মিটার দৈর্ঘ ৫.৫০ মিটার প্রস্থ স্পেন গার্ডারের উপর মরা তিস্তা নদীর ওপর একতা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২৪/০১/২০১৮ সালে। সেতুর নির্মাণ কাজ ২২/০৭/২০১৯ সালে শেষ হওয়ার কথা, তা বৃদ্ধি করে ৩০/০৫/২০২০ করা হলেও সৈকত-আলমগীর জাহান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফলতির কারণে সেতুর নির্মান কাজ আজও শেষ হয় নি।

জানাগেছে বানিজ্যমন্ত্রী সময় দিলেই বাকি কাজ শেষ করে উদ্বোধন করা হবে। কাঠামোগত সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও সঠিক নিয়মে নদী শাসন না করার কারনে সেতুর উত্তর প্রান্তে সংযোগ সড়কটি এমন ভাবে মরন বাঁক তৈরী ও সংর্কীন ভাবে তৈরি করায় ছোট ছোট যানবাহন চলাচল করতে পারলেও বড় যানবাহন চলাচল করতে পারবেনা বলে আশংকা করছে এলাকাবাসী। সেই সাথে এই বাঁকে দুর্ঘটনা নিত্য দিনের হবে এমন আশংকা যানবাহন চালকদের। সেতুতে উঠতে এবং নামতে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় সেতু নির্মাণের উপকার থেকে বঞ্চিত হবে এলাকাবাসী। এছারাও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি এমপির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হারাগাছ বকুল তলা থেকে একতা বাজার পর্যন্ত রাস্তাটি পাকা হওয়ার কথা থাকলেও দৃশ্যত তা দেখা যাচ্ছে না। লালমনিরহাটের রাজপুর, খলাইঘাট, চিনাতুলী, ঠিকানার হাট, কাউনিয়ার হারাগাছ ইউপির চর নাজিরদহ, পল্লিমারী, চর চতুরা গ্রামের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ একতা সেতুর ওপর দিয়ে উপজেলা-জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে চলাচল করবে। এছাড়াও ওই এলাকা গুলো কৃষি শষ্য ভান্ডার হিসেবে খ্যাত। কৃষি পণ্য পরিবহনে এই সেতুর ওপর দিয়েই ট্রাকে মালামাল পরিবহন করতে হবে। তাই সেতুর উত্তর প্রান্তে জমি অধিগ্রহণ করে সংযোগ সড়কটি প্রশস্ত করে সেতুর বাঁক কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী এলাকাবাসীর। হারাগাছ ইউপি চেয়ারম্যান রকিবুল হাসান পলাশ বলেন সংযোগ সড়কটি প্রশস্ত ও সেতু থেকে আরও ২০ফিট বৃদ্ধি করে বাঁক দেয়া প্রয়োজন, তা না হলে বাস-ট্রাক চলাচল করতে গেলেই দুর্ঘটনা লেগেই থাকবে। ফলে এলাকাবাসী সেতুর কাঙ্খিত সুফল থেকে বঞ্চিত হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম মায়া জানান, সেতুর উত্তর প্রান্তে সংযোগ সড়কের এতো বাঁক দেয়া ঠিক হয়নি, এতে যান চলাচলের সময় দুর্ঘটনা অধিক পরিমানে ঘটবে। উপজেলা প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান জেমি জানান সেতুর উত্তর প্রান্তে সংযোগ সড়কের জায়গা না থাকায় এমন বাঁক হয়েছে।

নির্মাণের পর তাদের কাছেও ক্রটি ধরা পড়েছে কিন্তু জমি অধিগ্রহন ছারা এটি সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও ব্যাক্তি মালিকানার জমি নিয়ে কাজ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে সংযোগ সড়কটি প্রশস্ত করে বাঁক কমানোর পদক্ষেপ গ্রহনের। জমি অধিগ্রহন ও বরাদ্দ পাওয়া গেলে সমস্যার সমাধান হবে। এছারা রাস্তা পাকা করণের জন্য মন্ত্রী মহদয়ের ডিও লেটারসহ আবেদন সদর দপ্তরে প্রেরন করা হয়েছে। আশা করছি কাজ হবে। নির্বাহী অফিসার মোছাঃ উলফৎ আরা বেগম জানান সমস্যাটি আমার চোখেও ধরা পরেছে, মন্ত্রী মহদয়ের সাথে কথা বলে জমি অধিগ্রহন করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এলাকাবাসী বানিজ্যমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্বপ্নের একতা সেতুর মরণ বাঁক কমাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.