রায়গঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভুমি)’র দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন

১৯

স্টাফ রিপোর্টার ।।  সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুবির কুমার দাস’র অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বগুড়ার শেরপুরের সীমাবাড়ী ইউনিয়নের বেটখৈর গ্রামে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে। বেটখৈর গ্রামের নারী-পুরুষ এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলে অংশ গ্রহন করেন। শুক্রবার বেলা ১১টায় ফুলজোড় নদীর তীরবর্তী বেটখৈর গ্রামের পাকা রাস্তায় এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ বক্তারা বলেন, গত ২রা ডিসেম্বর রায়গঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভুমি) তার অফিসিয়াল স্টাফসহ শেরপুর উপজেলার সীমাবাড়ী ইউনিয়নের বেটখৈর গ্রামে অনুপ্রবেশ করে বেটখৈর মৌজার ফুলজোড় নদীর তীরবর্তী জমি পরিদর্শনে আসেন। এসময় ওই ভূমি কর্মকর্তা স্থানীয় লোকজনদের গাছ কাটতে বলেন এবং গাছের বাঁধা গরু সরিয়ে নিতে বলেন। এ পর্যায়ে স্থানীয় বেটখৈর গ্রামের রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত গরু খামার ব্যবসায়ী আবুল কাশেমের ছোট ছেলে আহসান হাবির গাছ কাটা এবং গরু সরিয়ে নেয়ার কারণ জানতে চান এবং বলেন এই জায়গাতো বগুড়ার শেরপুরের। এছাড়া এই জায়গা নিয়ে হাইকোটে রিট মামলা রয়েছে। এতে ওই কর্মকর্তা ক্ষিপ্ত হয়ে তার সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং ওই কর্মকর্তার সঙ্গে আসা লোকজন আহসানকে ধরে টানা হেঁচড়া করতে থাকে। এ পর্যায়ে আহসানের মা সহ অন্য ভাই ঘটনাস্থলে এসে ওই কর্মকর্তা পরিচয় জানতে পারেন। তখন এসব ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বাড়িতে চা পানে দাওয়াত দেন। ভূমি কর্মকর্তা অন্য একদিন আসবেন বলে রায়গঞ্জে ফিরে যান। পরে ওই ভূমি কর্মকর্তা রায়গঞ্জ থানায় মিথ্যা অভিযোগ করেন। ওইদিন বিকেলে রায়গঞ্জ থানা থেকে ১০জন পুলিশ আসে শেরপুরের বেটখৈর গ্রামে। স্থানীয় লোকজন পুলিশকে ঘটনাস্থল দেখান এবং ঘটনার বিবরণ দেন। পুলিশ মুখে বলে তেমন কোন ঘটনা না, কিন্তু পরবর্তীতে ফিরে যাওয়ার সময় আহসান হাবিব’র সেজো ভাই আরিফুল ইসলাম জোরপূর্বক ধরে তুলে নিয়ে যায় এবং আরিফুলের আত্মীয় স্বজনদের বলা হয়, সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্যারের সঙ্গে আপনারা দেখা করেন।

এদিকে আরিফুলের আত্মীয় স্বজন গ্রামের ২/১ মরুব্বীদের নিয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদে যায়। কিন্তু এর মধ্যেই আরিফুল ফোন করে বলে থানায় আসার দরকার নেই। ঠিক সেই মূহুর্তে উপজেলা পরিষদের অদুরে আরিফুলের আত্মীয় স্বজনদের উপর হামলা চালনা হয়। এর মধ্যে রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে আরিফুলকে ২মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

এছাড়া আবুল কাশেমের দ্বিতীয় পুত্র তারিকুল ইসলাম রংপুর কারমাইকাল কলেজের প্রভাষক ও কনিষ্ঠ পুত্র আহসান হাবিব চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে আইন বিভাগে অধ্যায়নরত। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পত্র প্রেরন করেছেন রায়গঞ্জের নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভুমি)। এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বেটখৈর গ্রামের নারী পুরুষ। রায়গঞ্জে সহকারী কমিশনার (ভুমি)’র ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে এবং দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে সিরাগগঞ্জ জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার সহ বিভিন্ন দপ্তরে আবেন করা হয়েছে। কিন্তু ওই ভুমি কর্মকর্তা নিজের আক্রোশ চরিত্রাস্থ করতে একের পর এক ক্ষমতার অপব্যহার ও স্বেচ্ছাচারিতা করে যাচ্ছেন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.