বাম্পার ফলন দামও বেশী কাউনিয়ার মরিচ চাষীদের মুখে হাসি ফুটেছে

সারওয়ার আলম মুকুল,কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ কাউনিয়ায় তিস্তা নদী বেষ্ঠিত চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন গ্রাম ইতি মধ্যে মরিচের গ্রাম নামে পরিচিতি পেয়েছে। সেই সাথে মরিচ চাষ করে ওই এলাকার চাষ্রীা মঙ্গা জয় করে এখন সাবলম্বি। চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন ও দাম পেয়ে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। এলাকার চাহিদা মিটিয়ে কাউনিয়ার মরিচ যাচ্ছে রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে।
সরেজমিনে তিস্তা নদী বেষ্টিত চরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে চর নাজির দহ, পল্লীমারী, চর চতুরা, প্রাণনাথ চর, বল্লভবিষু, চর সাব্দী, গোপী ডাঙ্গা, চর পাঞ্জরভাঙ্গা, চর গদাই, চর ঢুষমারা, পূর্ব নিজপাড়া, গনাই, চর গনাই, চর হয়বতখাঁ, চর আজমখাঁ সহ তিস্তা নদীর জেগে উঠা চরে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে।

এ সব চরের চাষীরা আলু, গম, রসুন, পিয়াজের পাশাপাশি ব্যাপক ভাবে মরিচ চাষ করেছে। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে চলতি মৌসুমে মরিচ চাষের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৪১০ হেক্টর কিন্তু চাষ হয়েছে ৪৪৫ হেক্টর জমিতে। গত বছরের তুলনায় ৮৫ হেক্টর জমিতে বেমী মরিচ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগ জমি তিস্তা নদীর জেগে ওঠা চরে। তিস্তার চরাঞ্চলে পলি ও উর্বর দোআঁশ মাটিতে এবার মরিচের ব্যাপক ফলন হয়েছে। ফলন ভালো ও অধিক দাম পাওয়ায় চাষীরা বেজায় খুশী। প্রণনাথ চরের কৃষক আসাদুল ও চরগনাই গ্রামের দুদু মিয়া জামান এ বছর অক্টবর-নভেম্বর ভাদ্র আশ্বিন মাসে এক বিঘা জমিতে ফরিদ পুরী জাতের মরিচ চাষ করেছে, প্রয়োজনীয় সার, কীট নাশক ও পরিচর্যার কারণে তাদের ফলন ভাল হয়েছে। প্রথম দিকে প্রতি মণ মরিচ ৪ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেছেন। একই কথা জানালেন ঢুসমারা চরের কৃষক কোব্বাত আলী। তারা দুজনেই ২৫ শতক করে জমিতে মরিচ চাষ করেছে, শতকে ১ মন করে মরিচ ফলিয়েছেন,ইতোমদ্যে ২৫ শতক জমির মরিচ বিক্রি করেছেন প্রায় ৩১ হাজার টাকা। মরিচ চাষি মফিজ উদ্দিন, আমজাদ হোসেন জানান মরিচে তেমন রোগ বালাই হয় না, হালকা সেচ ২/৩বার,প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করতে হয়। রোপনের ৬০ দিনের মধ্যেই ফলন ধরা শুরু হয়। তবে জাত পোকা,পচন ধরা ও পটবোরার জাতীয় রোগ হয়। তিস্তার জেগে ওঠা চরে মরিচ চাষ করে অনেকেই সাবলম্বী হয়েছেন। সেই সাথে সংসারেও ফিরে এসেছে আর্থিক স্বচ্ছলতা। চাষি কোরবান জানান, তাদের উৎপাদিত মরিচ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে জেলা শহর থেকে শুরু করে রাজধানী পর্যন্ত রফতানি হচ্ছে। স্থানীয় কৃষকরা জানান, রংপুর অঞ্চলে মরিচ সংরক্ষনের জন্য সরকারী বা বে-সরকারী কোন হিমাগার না থাকায় প্রান্তিক চাষীরা বাধ্য হয়েও কম দামে মরিচ বিক্রি করতে বাধ্য হয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আলম জানান আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং পরিশোধীত বীজ, প্রয়োজনীয় সার কীটনাশক প্রয়োগ ও পরিচর্যায় কারনে চলতি মৌসুমে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ ছাড়াও তিস্তার জেগে ওঠা চরের জমিতে প্রচুর পলি পড়ায় এলাকার মাটির প্রকৃতি ও আবহাওয়া মরিচ চাষের জন্য উপযোগী। এ জন্য চাষীরা মরিচের ভাল ফলন পেয়ে লাভবান হচ্ছে। কৃষি অফিস থেকে সার্বক্ষনিক কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.