শেরপুর পৌরসভা নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে কাস্টিং ভোটারের চেয়ে ২০টি ব্যালট বেশি

৪০

॥ বিজয় বাংলা রিপোর্ট ॥
বগুড়ার শেরপুর পৌরসভা নির্বাচনে আট নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে কাস্টিং ভোটারের চেয়ে ২০টি ভোট ব্যালট বেশি পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত ২০ টি ব্যালট পেপার কীভাবে কোথা থেকে এলো এনিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। তবে হেরে যাওয়া তিন প্রার্থী শেরপুর পৌরসভা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এই ব্যালট সরবরাহ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন। আট নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বি তিন প্রার্থী ঘোষিত ফলাফল প্রত্যাখান করে পুনরায় নির্বাচনের দাবিও জানিয়েছেন।
গতকাল সোমবার (১৮জানুয়ারি) বেলা দশটায় শহরের স্থানীয় বাসষ্ট্যান্ডস্থ শেরপুর প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানিয়ে লিখিত বক্তব্য রাখেন পৌরসভার আট নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী বিদ্যুৎ কুন্ডু। এসময় কাউন্সিলর প্রার্থী তাপস মালাকার, নাজমুল হক লুলুসহ তাদের কর্মী-সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তৃতায় বিদ্যুৎ কন্ডুু বলেন, ঘোষিত তফশীল অনুযায়ী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে আট নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে চার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই ওয়ার্ডে মোট নারী-পুরুষ ভোটার রয়েছেন ২১১৫জন। এরমধ্যে নির্বাচনের দিন শনিবার সকাল আটটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত মোট ১৬৫৩জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। খাতা-কলমে সেটিই লিপিবদ্ধ আছে। এরমধ্যে সৌমেন্দ্র নাথ ঠাকুর শ্যাম পানির বোতল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৮৬ ভোট, তিনি উটপাখি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৪৮১ ভোট, তাপস মালাকার পাঞ্জাবি প্রতীক নিয়ে ৪২৯ ভোট ও নাজমুল লুলু ডালিম প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ২১৫ ভোট। বাতিল ভোটের সংখ্যা ৪২টি। মোট প্রদত্ত ভোট ১৬৫৩টি। কিন্তু ঘোষিত ভোটের ফলাফল ও ব্যালটের সঙ্গে কোনো মিল নেই। এমনকি গণনায় প্রাপ্ত ভোটের ব্যালট পাওয়া যায় ১৬৭৩টি। অর্থাৎ অতিরিক্ত থাকে আরও ২০ ব্যালট। বিষয়টি জানতে চাইলে এই কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস কোনো সদুত্তর দেননি। বরং প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ও তাদের এজেন্টদের কোনো অভিযোগ ও কথা না শোনে ফলাফল নয়ছয় করে মাত্র ৫ ভোট বেশি দেখিয়ে কাউন্সিলর পদে পানির বোতল প্রতীকের প্রার্থী সোমেন্দ্র নাথ ঠাকুর শ্যামকে বিজয়ী ঘোষণার পর তাদের স্বাক্ষর ছাড়াই তড়িঘড়ি করে ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করে উপজেলায় চলে যান। এরপর তিনিসহ বাকি দুইজন প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী নির্বাচনের দিনগত রাতেই এই ফলাফল জালিয়াতির বিষয়টি জানিয়ে সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আছিয়া খাতুনের নিকট লিখিত অভিযোগ করেন। পরবর্তীতে রাতভর দুইদফা ভোট গণনা করে একই ফল দাঁড়ায়।
কাউন্সিলর প্রার্থী বিদ্যুৎ কুন্ডু অভিযোগ করে বলেন, কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস তার প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর নিকট থেকে মোটা অঙ্কের অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তাকে জেতানোর দায়িত্ব নেন। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন চলাকালীন সময়ে বেশকিছু ফাকা ব্যালট দেন। সেসব ব্যালটে বাইরে সীল মেরে কৌশলে বাক্সে ঢুকানো হয়। তাই ভোটারের চেয়ে প্রাপ্ত ভোট ও ব্যালট বেশি হয়েছে। কিন্তু হিসাব মেলাতে না পারা এবং ফলাফল গড়মিল হওয়ার কারণেই বিষয়টি ধরা পড়েছে। শান্তিপূর্ণ এই নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করায় এই প্রিসাইডিং কর্মকর্তাসহ ঘটনায় জড়িতদের চিহিৃত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। সেইসঙ্গে পৌরসভার এই ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে জাল-জালিয়াতির নির্বাচনী ফলাফল প্রত্যাখান করে অচিরেই নতুন তফশীল ঘোষণার মাধ্যমে পুনরায় ভোট দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ওই প্রিসাইডিং অফিসার ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস সাংবাদিকদের বলেন, আমরাও বুঝতে পারছি না অতিরিক্ত ব্যালট কিভাবে এলো। তবে একাধিকবার ভোট গণনা করে দেখা যায় কাউন্সিলর প্রার্থী বিদ্যুৎ কুন্ডুর উটপাখি মার্কার বান্ডিলে বেশকিছু জাল ব্যালট পাওয়া যায়। পরবর্তীতে নির্বাচনের সহকারি রির্টানিং কর্মকর্তার নির্দেশে সেসব বাতিল করা হয়। এতে করে একটু গড়মিল হতে পারে। এছাড়া তিনি কোনো অনিয়মের মধ্যে নেই বলে দাবি করেন। সহকারি রিটানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার আছিয়া খাতুন জানান, অতিরিক্ত ব্যালটগুলো সম্ভবত অন্য কোনো কেন্দ্রের। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা ওইসব ব্যালট এনে বাইরে সীল মেরে ভোট দিতে গিয়ে বাক্সে ফেলেছে। তবে অভিযোগ পাওয়ার পর একাধিকবার ভোট গণনাসহ ভুয়া ব্যালটগুলো চিহিৃত করে তা বাতিল করা হয়। সেইসঙ্গে সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থী সৌমেন্দ্র নাথ ঠাকুর শ্যামকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.