কুয়াশার সকালের বিড়ম্বনা

১৪

ফিরোজ পোদ্দার ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:  কুয়াশা মলিন রাতের আকাশে অবিরাম ঝড়ে বিন্দু বিন্দু শিশির। পৌষের প্রথম থেকেই প্রচণ্ড শীত হাড়ে কাঁপন জাগায়। কুয়াশাচ্ছন্ন শীতের সকাল ও তার প্রকৃত বৈশিষ্ট্য অবলোকন করার সৌভাগ্য সবার হয় না। ভোরের প্রচণ্ড শীতে সকালের বেশ কিছু সময় লেপ কাঁথার নিচে অনেকেই আয়েশ করে ঘুমায়।

অন্যান্য ঋতুর মতই শীতের সকাল ও আপন স্বাতন্ত্র্যে সমুজ্জ্বল। শীতের সকাল রুপসৌন্দর্যে স্বতন্ত্র ও বৈশিষ্ট্যে অভিনব। শীতের সকাল এক আমেজ ছড়ানো সকাল। উঠি উঠি করেও সূর্যি মামা অনেক দেরিতে পূর্ব আকাশে দেখা দেয়। কুয়াশার ঘন আবরণ ভেদ করে সূর্যের সোনালি মিঠে আলো ছড়িয়ে পড়ে ধরাবক্ষে।
মুক্তো বিন্দুর মত অজস্র শিশিরকণা টলটল করে ঘাস লতাপাতা, ক্ষেতে, দূর্বাদলে ও বন বীথিকার পত্রে-পুষ্পে। কুয়াশাচ্ছন্ন শিশিরভেজা সকালের প্রকৃতিকে মনে হয় নিদারুন বির্মষ। শীতের সকালে গ্রামবাংলার প্রকৃতি, মানুষ ও জীবজন্তুর ওপর এক বিশেষ প্রভাব বিস্তার করে এই শীতের সকাল।

সকাল হয়েও হতে চায় না, ভোর থেকেই প্রাণীজগৎ সূর্যের প্রত্যাশা করে। হাড় কাপানো হিমেল বাতাস প্রকৃতির বুকে মারতে থাকে নিষ্ঠুর শীতের চাবুক। নর -নারী, আবাল -বৃদ্ধ বনিতা আড়ষ্ঠ হয়ে সূর্যকরের মিঠে উষ্ণতার অপেক্ষা করে। শীতে দরিদ্র গ্রামবাসী খড়-পাতার আগুনের চারপাশে দল বেঁধে বসে হাড় কাঁপানো শীতকে দূর করতে সচেষ্ট হয়। বিদ্যার্থী ছেলে ও মেয়েরা শীতের সকালের মিঠে রোদে মাদুর বিছিয়ে বই পড়ার আনন্দে মেতে ওঠে। পাড়া গাঁয়ে শীতকালে খেজুর রস আর মুড়ির প্রাত:কালিন নাস্তা অত্যন্ত উপদেয় ও লোভনীয়। গ্রামবাংলায় ,শহুরে ও শিক্ষিত পরিবারে চা-মুড়ির নাস্তাকেও উপেক্ষা করা যায় না। পল্লীবাংলার গ্রীমীন জীবনে খেজুর রসের পায়েস এবং হরেক রকমের পিঠে-পুলির ধুমধাম বিশেষ বৈশিষ্ট্যের দাবিদার। শীতের সকালে খেজুর রস বিত্রুতা বাড়ী বাড়ী গিয়ে রস বিত্রু করে বেড়ান। বিশেষ করে এই শীতে ভাপা পিঠা। শীতে ভাপা পিঠার কদরেই আলাদা। হাট-বাজারে ভাপা পিঠা বিক্রির ধুম পড়ে যায়। হাট-বাজারে ত্রেতাদের ভিড় চোখে পড়ার মত। ত্রুমেই বেলা বাড়ে, কুয়াশা হয় অপসারিত। মিঠে রোদে অবগাহন করতে করতে কৃষাণ ছুটে চলে ক্ষেতের দিকে। কৃষক হাড় ভাঙ্গা শীতকে উপেক্ষা করে, কাঁধে লাঙ্গল, জোয়াল, মই আর হালের বলদ নিয়ে ছুটে চলছে জমি চাষ করতে। কনকনে শীতে সবচেয়ে বেশী প্রভাব পড়ে খেটে-খাওয়া দিনমজুর ওপর।
হলদে সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির গুঞ্জন বাড়তে থাকে। পল্লীবাংলার ছেলেমেয়েরা এই কনকনে শীতে শরীলকে একটু উষ্ণ করতে দল বেঁধে মাঠে খেলায় মেঠে ওঠে । বিশেষ করে ত্রুিকেট, ফুটবল , গোলাছুট, ধাইরাবান্ধা ইত্যাদি খেলায়।
শহুরে শীতের সকাল স্নিগ্ধ নয়। ইটের স্তূপে পতিত শিশিরকণা মুক্তো বিন্দুর মত এখানে টলটল করে না। প্রবাহমান হিমেল হাওয়ায় থাকে না মৌ মৌ গন্ধ। হালকা কুয়াশার মাঝে ভোর পর্যন্ত যখন ল্যাম্প পোষ্টে বিজলী বাতি জ্বলতে থাকে তখন পাংশুটে হয়ে ওঠে রাজপথ। শীতের সকালেও একটি নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে তা পরিষ্কার ভাবেই ধরা পড়ে গ্রামবাংলার অবারিত আঙিনায়। শীতের কুয়াশা মলিন, ম্রিয়মান রুপের মধ্যেও রয়েছে নবচেতনার ও নব জীবনের প্রস্তুতির রেশ। তবে দরিদ্র বস্ত্রহীনদের কাছে শীতের সকালের বিড়ম্বনা কম নয়

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.