বদলগাছীর নদী খননকালে পাওয়া তিনটি মূল্যবান মূর্তি হস্তান্তর

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার জাদুঘরে তুলসীগঙ্গা

১৭

আব্দুল কাদের, বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি :  নওগাঁর বদলগাছী ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার জাদুঘরে তুলসীগঙ্গা নদী খননের সময় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার পাথরঘাটায় এলাকায় পাওয়া প্রাচীন আমলের মহামূল্যবান তিনটি মূর্তি প্রতœতত্ত্ব নির্দশন হস্তান্তর করেছে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসন। ১১ জানুয়ারী সোমবার সন্ধ্যায় পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার জাদুঘরের কাস্টেডিয়ান মোহাম্মদ ফজলুল করিম জয়পুরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে এই তিনটি মূর্তি বুঝিয়ে নিয়েছেন।
এসময় জয়পুরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মুঃ রেজা হাসান, প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ মোনাববর হোসেন। এরআগে বিকেলে জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি) শরীফুল ইসলাম, প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা, পাঁচবিবি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরমান হোসেন, পাহাড়পুর জাদুঘরের কাস্টেডিয়ান, আটাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আ,স,ম আরেফিন চৌধুরী খননকৃত তুলসীগঙ্গা নদীর পাথরঘাটা এলাকার পরির্দশন করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২২ ডিসেম্বর তুলসীগঙ্গা নদী খননের সময় পাথরঘাটা এলাকায় দুটি কলো পাথরের মূর্তি পাওয়া যায়। পাঁচবিবি উপজেলা প্রশাসন ওই দুটি মূর্তি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারি শাখায় জমা দিয়েছিল। এরপর গত ৭ জানুয়ারি তুলসীগঙ্গা নদীর একই এলাকায় ১১৪ কেজি ওজনের আরও একটি কালো পাথরের মূর্তি পাওয়া যায়। ওইদিনই পাঁচবিবি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এম, এম, আশিক রেজা মূর্তিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারি শাখায় জমা দিয়েছিলেন। একই এলাকায় পর পর তিনটি মূর্তি পাওয়ার ঘটনায় জয়পুরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি) শরীফুল ইসলাম ওই এলাকা খনন করা যায় কি তা প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরে জানিয়েছিলেন। সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসক শরীফুল ইসলাম, প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানাসহ স্থানীয় প্রশাসনের অন্যন্য কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি পাথরঘাটা এলাকাটি পরির্দশন করেন। এরপর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারি শাখা এসে তিনটি মূর্তি বুঝিয়ে নেন পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার জাদুঘরের কাস্টেডিয়ান মোহাম্মদ ফজলুল করিম।
জানতে চাইলে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার জাদুঘরের কাস্টেডিয়ান মোহাম্মদ ফজলুল করিম বলেন, জয়পুরহাট জেলা প্রশাসন পাহাড়পুর জাদুঘরে তিনটি মূর্তি হস্তান্তর করেছে। ওই তিনটি মূর্তি তুলসীগঙ্গা নদী খননের সময় পাওয়া গিয়েছিল। পাঁচবিবি পাথরঘাটায় সংরক্ষিত প্রতœতত্ত্ব এলাকা রয়েছে। ওই এলাকার বাহিরে এই তিনটি মূর্তি পাওয়া যায়।
প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক নাহিদ সুলতানা সোমবার রাত নয়টায় বলেন, প্রতœতাত্বিক নির্দশন এলাকা পাঁচবিবির পাথরঘাটা। আমরা পাথরঘাটায় গিয়েছিলাম। পাথরঘাটার মূর্তি পাওয়া স্থানটি পরির্দশন করেছি। প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে ওই স্থানটি খননের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হবে।
জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) শরীফুল ইসলাম বলেন, তুলসীগঙ্গা নদী খননের সময় পাথরঘাটায় পাওয়া তিনটি মূর্তি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ট্রেজারি শাখায় জমা ছিল। পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার জাদুঘরে ওই তিনটি মূর্তি হস্তান্তর করা হয়েছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.