বেকার হয়ে পরেছে হাজারও শ্রমিক কাউনিয়ায় তিস্তা নদীর নাব্যতা সংকটে নৌ-চলাচল বন্ধ

১৩

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি :  তিস্তা নদীর নাব্যতা সংকটে বিভিন্ন রুটে নৌ-চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। শুকনা মৌসুমে নদীপথ পারি দিতে সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে নৌ পথের পথচারিদের। নাব্যতা সংকটের কারনে হাজারও নৌ-শ্রমিক বেকার হয়ে পরেছে। অনেকে বাধ্য হয়ে জীবন জীবিকার নির্বাহের জন্য বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য পেশা বেছে নিচ্ছে। বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছে নৌ-শ্রমিকরা। তিস্তা নদীতে পানি না থাকায় পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে দিনের পর দিন। হারিয়ে যেতে বসেছে নদীতে বসবাসরত বিভিন্ন প্রাণীকুল।

স্বাধীনতার পর আজও কাউনিয়া উপজেলার হারাগাছ,শহীদবাগ,বালাপাড়া ও টেপামধুপরি ইউনিয়নের পাশ দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী ড্রেজিং, খনন, সংরক্ষণ ও সংস্কার করা হয়নি। ফলে দিনের পর দিন উজান থেকে নেমে আসা পলি জমে খর ¯্রােতি রাক্ষুসি তিস্তা নদী ভরাট হয়ে ধূ-ধূ বালুচর আর ফসলী জমিতে পরিনত হয়েছে। তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হয়ে অসংখ্য খাল ও শাখা নদীতে রুপ নিয়েছে। শুকনা মৌসুমে নদীপথে চলাচল অত্যন্ত দুরহ্ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। নদীপথে চরাঞ্চলে চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে পায়ে হেঁটে, ঘোড়ার গাড়ীতে চরে। সে কারনে হাজারও নৌ-শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। নষ্ট হচ্ছে নৌ-শ্রমিকদের উপকরণ নৌকা, জাল, বাঁশের তৈরি মাছ ধরার যন্ত্র। শ্রমিকরা এখন বাপ দাদার পেশা ছেড়ে দিয়ে রিক্সা, ভ্যান, আটোবাইক চালিয়ে অনেকে রাজ মিস্ত্রি ও বিভিন্ন কলকারখানায় দিনমজুরের কাজ করছে। নদী ড্রেজিং, খনন, সংরক্ষন ও সংস্কার না করায় গতিপথ পরিবর্তন হয়ে প্রতিবছর শত শত একর জমি বসত-বাড়ি নদীগর্ভে বিলিন হচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, পাখিসহ ঐতিহ্যবাহী প্রাণীকুল। এ কারনে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে দিনের পর দিন। বন্ধ হয়ে গেছে নৌ-পথের ব্যাবসা-বাণিজ্য। একসময় ছিল যখন কাউনিয়া থেকে রাজারহাট, উলিপুর, কাশিম বাজার, চিলমারি থানার হাট, রৌমারি, ভুরুঙ্গামারি, যাদুর চর, জামালগঞ্জ, সুন্দরগঞ্জ, বাহাদুরাবাদ, দেওয়ানগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে নৌ-চলাচল করতো তা এখন বন্ধ হয়ে গেছে। তিস্তা সেতু এলাকায় কথা হয় নৌ-শ্রমিক রাজু, শাহিনুর, আজমল আলীর সাথে। তারা জানান এক সময় এই নদী দিয়ে সমপান নৌকাসহ নানা ধরনের পন্যবাহী নৌকা চলা চল করতো। দীর্ঘ দিন থেকে নদী ভরে যাওয়ায় এখন আর নৌকা চলে না। শুধু মাত্র বর্ষাকালে ২-৩ মাস নৌকা চলাচল করে তাও কাছাকাছি এলাকায়। সে কারনে তারা মাঝি মাল্লার পেশা ছেড়ে দিয়েছে। নিজপাড়া মাঝিপাড়ার জেলে সত্য বাবু ও আবুল জানান নদীতে আর আগেরমতো মাছ পাওয়া যায় না। মুল নদী এখন নালা আর খালে রুপ নিয়েছে।

সারাদিন বিভিন্ন শাখা নদীতে মাছ ধরে বিক্রি করে যা আয় হয় তা দিয়ে সংসার চালে না। বালাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আনছার আলী জানান নাব্যতা সংকট দুর করতে বানিজ্য মন্ত্রী টিপু মুন্শি এমপির সাথে কথা হয়েছে তিনি নদী ড্রেজিং করা সহ নদী অঙ্গন রোধে ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দিয়েছেন। রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারি প্রকৌশলী জানান তিস্তা নদীকে ঘিরে সরকার মহাপরিকল্পনা গ্রহন করেছে তা বাস্তবায়ন হলে নদীর নাব্যতা ফিরে আসবে। কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ উলফৎ আরা বেগম বলেন চায়নার সাথে সরকারের তিস্তা নদী নিয়ে যে মহাপরিকল্পা গ্রহন করেছে তার বাস্তবায়ন হলে নদীর সাথে জীবন-জীবিকা নির্বাহ কারী সহ জীববৈচিত্র ফিরে আসবে। আশা করছি দ্রুত এর কাজ হবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.