ফরিদপুরে দু’গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৫০

ফরিদপুরের সালথায় গ্রাম্য দলাদলি নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ছয় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের কুমারপট্টি গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষচলাকালে অন্তত ৫টি বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কয়েক রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, গ্রাম্য দলাদলি ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তার নিয়ে কুমারপট্টি গ্রামের এসকেন মাতুব্বরের সাথে হারুন মাতুব্বরের দীর্ঘদিন ধরে রিবোধ চলে আসছিল। এই দুই মাতুব্বর গ্রাম্য দু’টি গ্রুপের নেতৃত্ব দেন। কোনো সূত্রপাত ছাড়াই বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে নিজেদের গ্রাম্য দলের শক্তি জানান দিতে উভয় গ্রুপের শতশত লোকজন দেশীয় অস্ত্র ঢাল, কাতরা, ভেলা, সরকি, টেঁটা ও ইটের টুকরো নিয়ে স্থানীয় মাঠের মধ্যে জড়ো হয়। একপর্যায় তারা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২ টা পর্যন্ত চলে এ সংঘর্ষ। পরে এ সংঘর্ষে আশপাঁশের কয়েক গ্রামের মানুষ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে অংশ নেয়। সংঘর্ষের সময় ৫টি বসতঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে উত্তেজিত সংঘর্ষকারীরা। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। আতঙ্ক আর ভয়ে এ এলাকার নারী ও শিশুদের এদিক ওদিক ছুঁটাছুটি করতে দেখা যায়।
খবর পেয়ে সালথা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টাকালে সংঘর্ষকারীদের ইটের আঘাতে ও হামলায় ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়। এ ছাড়া সংঘর্ষে উভয় গ্রুপের অন্তত অর্ধশাধিক ব্যক্তি আহত হয়। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মাদ আলী জিন্নাহ গণমাধ্যমকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৮ রাউন্ড শর্টগানের ফাঁকা গুলি ও ২টি সাউন্ড গ্রেনেট নিপে করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। এ সময় ৬ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়। তাদের নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। ওই এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.