শিবগঞ্জে প্রতিবন্ধীকে দিনের পর দিন ধর্ষণ! সাত মাসের অন্তস্বত্বা

৩৩

শিবগঞ্জ (বগুড়া) প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জের পল্লীতে বিধবা প্রতিবন্ধী (২৫) কে দিনের পর দিন  ধর্ষণ করার ওই প্রতিবন্ধী নারী সাত মাসের অন্তস্বত্বা হয়। আজ বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায়  শিবগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ এসএম বদিউজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রতিবন্ধীর মা নুরজাহান বেগম বাদি হয়ে শিবগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে মামলা নং-৩।

মামলা ও অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের গনকপাড়া গ্রামের মোঃ বাকি উল্লার ছেলে আফজাল হোসেনের সাথে সাত বছর পূর্বে ওই প্রতিবন্ধী নারীর বিবাহ হয়। বিয়ের সাড়ে ৫ বছরের মধ্যে তাদের দুটি কন্যা সন্তানের জন্ম  নেয়।  দের বছর পূর্বে ওই প্রতিবন্ধীর স্বামী আফজাল হোসেন মারা যায়। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই ভিক্ষা করে সংসার চালাতো দু’সন্তানকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতেই।  এলাকার ঘর জামাই বাদল মিয়ার গাইবান্ধা জেলার গবিন্দগঞ্জ উপজেলার বাসাপাড়া গ্রামের রহিম উদ্দিনের ছেলে।  স্ত্রী বাড়িতে না থাকায় মাঝে মধ্যে সে বিধবা প্রতিবন্ধী নারী বাড়িতে যাতায়াত করতো। এবং বিভিন্ন সময় তাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে প্রায় ধর্ষণ করতো প্রতিবন্ধী ওই নারীকে । প্রতিবন্ধী নারীর গর্ভের সময় বাড়তে থাকলে তার চেহারায় পরিবর্তন আসার ফলে সন্দেহ হয় এলাকার সাধারণ মানুষের। বিষয়টি বাদল টের পেয়ে ভয় পেয়ে যায়। গনকপাড়া গ্রামের মোঃ বিষা মিয়ার ছেলে এলাকার প্রভাশালী ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলামের কাছে বিয়টি জানিয়ে সেখানেই আশ্রয় নেয় । মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ইউপি সদস্য জাহিদুল ওই প্রতিবন্ধী  কে ভয়-ভীতি দেখিয়ে এলাকার কেও জানার আগেই বাদলের বাড়িতে রেখে দেয়। এবং বাচ্চাটা নষ্ট করার পরিকল্পনা করে । এ নিয়ে বিষটি এলাকায় সমালোচনা হলে পরে ডাক্তারী পরিক্ষায় জানা যায় বিধবা প্রতিবন্ধী নারী সাত মাসের অন্তস্বত্বা। অবস্থা বেগতিক হলে ধর্ষক বাদল আবার আশ্রয় নেয় এলাকার প্রভাশালী ইউপি সদস্য জাহিদুলে কাছে। জাহিদুল ধর্ষককে এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও এলাকার সাধারণ মানুষের তোপের মুখে লোক দেখানো গ্রাম্য শালিসের  আয়োজন করে প্রভাশালী ইউপি সদস্য জাহিদুল। ওই শালিসে জাহিদুলের পুর্বে শিখিয়ে দেওয়া বুদ্ধিতে ধর্ষক বাদল টয়লেটের যাওয়ার কথা বলে পালিয়ে যায়। পরে এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। গত ৪দিন পরে বুধবার রাত্রিতে প্রতিবন্ধীর মা নুরজান বেগম বাদি হয়ে থানা মামলা দায়ের করে।

প্রতিবন্ধী’র মা নূর জাহান বেগম বলেন, আমি থানায় একটা অভিযোগ দায়ের করেছিলাম  অভিযোগ দেওয়া পর হতেই ইউপি সদস্য জাহিদুলসহ অজ্ঞাত কিছু লোকজন আমাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছিল। পরে ওসিস্যার গতকাল থানায় মালমা নিয়েছে।
এ বিষয়ে প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষনের শিকার  বলেন, বাদল আমাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করতো। আমি কাউকে বলে দিলে সে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিত।
বিষটি নিয়ে প্রভাশালী ইউপি সদস্য জাহিদুল বলেন, প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ করেছে এটা সত্যি। সে বর্তমানে সাত মাসের অন্তস্বত্বা। আমি একটা বিচারের ব্যবস্থা করেছিলাম কিন্তু বিচারের দিন বাদল পালিয়ে যাওয়ায় তাদেরকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেয়।
এ ব্যপারে শিবগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ এসএম বদিউজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে মামলা হয়েছে, ধর্ষককে আটক করা হয়েছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.