বাংলাবান্ধা ইউপি চেয়ারম্যান জেলহাজতে, প্রতিবাদে তেঁতুলিয়া-বাংলাবান্ধা সড়ক অবরোধ

মোঃ আহসান হাবিব তেঁতুলিয়া (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি : 
আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে আটক হয়েছেন বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কুদরত-ই-খুদা মিলন। সোমবার (৪ জানুয়ারি) দুপুরে একটি ফৌজদারী মামলায় তাঁকে জেলহাজতে প্রেরণের আদেশ দেন পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মতিউর।
এদিকে চেয়ারম্যান মিলনকে জেলহাজতে প্রেরণ করায় প্রায় ২ ঘন্টা মহাসড়ক অবরোধ করেছে বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে স্থানীয় শ্রমিক-শ্রমিকনেতা ও এলাকাবাসীরা। খবর পেয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিকে নিয়ে আসে।

জানা গেছে মামলার বাদী একই উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের বালুবাড়ি এলাকার আ: হামিদ একজন পাথর ব্যবসায়ি। ব্যবসা সূত্রে তিনি বাংলাবান্ধা এলাকায় ৬৫ শতক জমি কিনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান করেন। পাশেই বসতবাড়িও নির্মাণ করেন তিনি। ওই জমি দখলের পায়তারা শুরু করে চেয়ারম্যান মিলন। গত বছরের ২০ মার্চ রাতে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন ভোর বেলায় বিভিন্ন অস্ত্র সস্ত্রসহ হঠাৎ করে হামিদের বসবাড়িতে আক্রমণ করেন। এ ঘটনায় বাদীর স্ত্রীর শ্লীলতাহানী করাসহ বেশ কয়েকজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করলে তারা গুরুতর আহত হন। পরে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়।

বাদী পক্ষের এ্যাডভোকেট আহসান হাবিব জানান, এ মামলায় চেয়ারম্যান মিলন হাইকোর্ট থেকে ২৮ দিনের জামিনে ছিলেন। এর আগে আদালত মেডিক্যাল রিপোর্ট তলব করেছিলো। আদালতের তলব সাপেক্ষে মেডিকেল রিপোর্ট জমা দেয়া হয়। সোমবার শুনানীতে সেই রিপোর্টের আলোকে আসামী মিলনকে জেল হাজতে প্রেরণ করে আদালত। জানা গেছে, চেয়ারম্যান মিলনের বিরুদ্ধে ২৩ টি মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
বাংলাবান্ধা ইউনিয়নিয়ন শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজিঃ নংরাজঃ ২০০০) সাধারণ সম্পাদক মানিক মিয়া ও হাসিবুল জানান, আমাদের বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কুদরত ই খুদা মিলনকে ষড়যন্ত্র করে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। তিনি এ এলাকায় মেহনতি ও গরীব দুখি মানুষের চেয়ারম্যান। আমরা এ ঘটনার এর তীব্র প্রতিবাদসহ চেয়ারম্যানের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবী জানাচ্ছি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ মিথ্যা মামলা থেকে তাকে অব্যাহতি না দিলে আন্দোলন কঠোর থেকে কঠোরতর হবে।
উল্লেখ্য যে, গত বছর এ মামলার সংক্রান্ত বিষয়ে বাদী-বিবাদী উভয়েই পৃথক পৃথকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে। এ বিষয়ে মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবু ছায়েম মিয়া আন্দোলনরত বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বলেন, বিষয়টি মহামান্য আদালতের। জনগণ ও যাত্রীদের যাতায়াতের নিরাপত্তার স্বার্থে এসব আন্দোলন হতে বিরত থাকার অনুরোধ জানান তিনি।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.