সান্তাহার রেলগেট ও লাইনের ভেতর গড়ে উঠেছে অবৈধ দোকানপাট

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশন, লেভেল ক্রসিং রেলগেট ও রেললানের আশেপাশে গড়ে তোলা হয়েছে শতশত অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা। ফলে মারাত্মক ঝুঁকিতে চলছে ট্রেন, সাধারন মানুষ ও অন্যান্য যানবাহন। যে কোন মুহুর্তে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। অবিলম্বে এসব গড়ে উঠা অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা সরিয়ে ফাঁকা করার জন্য স্থানীয়রা দাবী জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আদমদীঘির সান্তাহার বৃহৎ রেলওয়ে জংশন এলাকার লেভেল ক্রসিং রেলগেট, প্লাটফরমের আশে পাশে রেললাইনের উপড়সহ বিভিন্ন জায়গায় এক শ্রেনির প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা। রেলগেটের উত্তরে স্বাধীনতা মঞ্চ ঘেঁষে রেললাইনের উপড় গড়ে তোলা হয়েছে পুরাতন কাপড়ের বিশাল মার্কেট। এইসব দোকানপাট ও স্থাপনা থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা অবৈধ ভাবে টোল আদায় করা হয়ে থাকে। আদায়কৃত অর্থ প্রভাবশালী মহলসহ সংশ্লিষ্ঠ মহলের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা হয়ে থাকে বলে স্থানীয় দোকানদারদের অভিযোগ। সুত্র জানায়, রেলওয়ে উর্দ্ধতন কৃতপক্ষ স্টেশন পরিদর্শনে আসলে কৌশলে সরিয়ে লেভেল ক্রসিং রেলগেটসহ আশে পাশের এলাকা ফাঁকা করেন স্থানীয় প্রভাবশালি মহল, স্টেশন মাস্টার ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। পরিদর্শন শেষে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ ফিরে যাওয়ার পর পুনরায় বসানো হয় ওইসব স্থানে অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা।

জনগুরুত্বপুর্ন এলাকায় প্রায় স্থায়ী ভাবে শতশত অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা বসিয়ে একটি মহল অবৈধ ভাবে টোল আদায় করায় একদিকে যেমন রেলওয়ের জায়গা দখল ও অন্যদিকে লেভেল ক্রসিং বা রেলগেটের ভিতর দিয়ে ট্রেন, সাধারন মানুষ ও অন্যান্য যানবাহান চলাচলে মারাত্বক ঝুঁকিপূর্ন হয়ে পড়েছে। ইতিপূর্বে কয়েক দফায় ট্রেন দূর্ঘটনার কবলে পড়লেও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। বর্তমানে আরও বেশি আকারে অবৈধ দোকানপাট বসানোর কারনে ট্রেন ও পথচারী চলাচলে ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। অবিলম্বে এইসব অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা অপসারনের জন্য এলাকাবাসী দাবী জানিয়ে রেলওয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানালেও কোন সুরাহা হয়নি। সান্তাহারে স্টেশন মাস্টার হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, রেলগেট ফাঁকা করা হচ্ছে এবং অপর অবৈধ দখলকারিদের নিজনিজ স্থাপনা অপসারণের জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। রেলওয়ে থানার ওসি মনজের আলী জানান, অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চাইলে পুলিশ সহযোগীতা করবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.