খেলায় বিতর্ক সিদ্ধান্তে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ২০

১৭

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ফুটবল খেলার ফাইনাল ম্যাচে পরিচালনাকারীদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। রোববার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের ডননদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে এ ঘটনার সংঘর্ষের চিত্র ধারণ করতে গেলে উত্তেজিত লোকজন সংবাদকর্মী কাউছার হোসেনের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় তিনি মারধরের শিকার হন। এ ঘটনায় তিনি অজ্ঞাত ৩০ জনের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিজয় দিবস উপলক্ষে ডোননদী দিগন্ত ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। ডোননদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয়। রোববার বিকেলে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় নোয়াগাঁও সমাজ কল্যাণ ক্রীড়া সংঘ ও ডোননদী ক্রীড়া সংঘ অংশগ্রহণ করে। খেলার চলার একপর্যায়ে পরিচালনাকারীদের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে দু’পক্ষের খেলোয়াড়দের মাঝে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে ডোননদী দিগন্ত ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা সফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি পক্ষ লাঠিসোটা নিয়ে নোয়াগাঁও ক্রীড়া সংঘের সমর্থকদের ওপর হামলা করে। এতে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে জড়িয়ে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যদিকে খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছবি ধারণ করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে সংঘর্ষকারীরা দৈনিক ভোরের কাগজের রামগঞ্জ প্রতিনিধি কাউছারের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিয়ে মারধর করা হয়। নোয়াগাঁও সমাজ কল্যাণ ক্রীড়া সংঘের সভাপতি ও নোয়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান শেখ ফরিদ জানান, খেলায় তারা একটি কর্ণার ও বিপক্ষ দলের অফসাইট হয় কিন্তু রেফারি তা দেননি। এনিয়ে মাঠের বাইরে দর্শকদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তার দলের খেলোয়াড়রা আবেদন করেও ব্যর্থ হন। এরমধ্যেই টুর্নামেন্ট কমিটির লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে তার খেলোয়ার ও গ্রামবাসীর ওপর হামলা করে। এতে তার এলাকার ১১ জন আহত হয়।

তবে এ ঘটনায় টুর্নামেন্ট পরিচালনাকারী ডোননদী দিগন্ত ফাউন্ডেশনের সভাপতি মোতালেব মাস্টারের মোবাইলফোনে একাধিকাবার কল করেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে রামগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কার্তিক চন্দ্র বিশ্বাস জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। সংঘর্ষের ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। তবে সাংবাদিককে মারধর ও ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.