চুরি যাওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করলো পুলিশ

১৮

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি.
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চুরি যাওয়া দুই মাসের কন্যাশিশু তাইবাকে আটদিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টায় থানা চত্বরে প্রেসব্রিফিংয়ে তথ্যটি নিশ্চিত করেন নাটোর জেলা পুলিশ সুপার লিটন কুমার সাহা।
প্রেসব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার জানান- পার্শ্ববর্তী বড়াইগ্রাম উপজেলার তিরাইল গ্রামের ট্রাক চালক সাইদুলের স্ত্রী শাকিলা গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমেপ্লক্স থেকে ওই শিশুটি চুরি করে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে পাওয়া তথ্য এবং আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে পুলিশ, ডিএসবি, ডিবি এবং পুলিশের স্পেশাল টীমের সমন্বয়ে ৭দিন ব্যাপি পাবনা, সিরাজগঞ্জ এবং নাটোর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে বুধবার গভীর রাতে পুলিশ বড়াইগ্রাম উপজেলার কালিকাপুর এলাকা থেকে শাকিলাকে গ্রেপ্তার করে। এসময় শিশু তাইবাকে উদ্ধার করে তার মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেয় পুলিশ। অভিযুক্ত শাকিলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন শিশু তাইবার মা শিমা বেগম ও বাবা তফিজ উদ্দিন।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত শাকিলা বলেন- ট্রাক চালক সাইদুল তার দ্বিতীয় স্বামী। মাস দুয়েক আগে তারও একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। সেসময় স্বামী তাকে ভরণপোষণ না দেওয়ায় অভাবি শাকিলা নিঃসন্তান একটি এনজিও পরিবারে শিশুটিকে দত্তক দেন। কিছুদিন পরে স্বামী সাইদুল দত্তক দেওয়া সন্তানকে ফিরে পেতে তার ওপর নির্যাতন শুরু করতে থাকে। একারণে তিনি যেকোন ভাবেই একটি শিশু সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেন। তারই প্রেক্ষিতে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে কৌশলে শিশু তাইবাকে চুরি করেন।
গুরুদাসপুর থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন- উপজেলার মশিন্দা মাঝপাড়া গ্রামের তফিজ উদ্দিনের স্ত্রী শিমা বেগমের দুই মাসের শিশু তাইবা ২৩ ডিসেম্বর হাসপাতাল থেকে চুরি হয়। এঘটনায় শিশুটির বাবা তফিজ উদ্দিন থানায় মামলা দায়ের করলে তারা ৮দিন পর ৩০ ডিসেম্বর বুধবার রাতে শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযুক্ত শাকিলাকে বৃহস্পতিবার নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.