শেরপুরে ১২ দিনে ৫টি অভিযানে ১ জনের কারাদন্ডসহ প্রায় ২লক্ষ টাকা জরিমানা আদায়

অপরাধীদের আতঙ্কের নাম এসিল্যান্ড সাবরিনা শারমিন

১৩৪

আব্দুল ওয়াদুদ :
বগুড়ার শেরপুরে সহকারি কমিশনার (ভূমি) যোগদানের পর থেকে অপরাধীদের কাছে আতঙ্কের নাম এসিল্যান্ড সাবরিনা শারমিন। গত ১২দিনে ৫টি অভিযানে এক মাদক সেবন ও ব্যবসায়ীকে কারাদন্ড সহ ফসলি জমি রক্ষায় অবৈধভাবে মাটিকাটা, বালু উত্তোলন বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ১ লক্ষ ৮২ হাজার ৭শ টাকা জরিমানা আদায় করে। সোমবার (২১ ডিসেম্বর) উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিয়াকত আলীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে উপজেলার মির্জাপুর, সুখানগাড়ী, ছোনকা, ছোট ভবানীপুরের পাঁচদেউলীতে ফসলি জমি রক্ষায় ও অবৈধভাবে মাটিকাটা বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা শারমিন। এ সময় “বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০” অনুসারে দুইটি মামলায় মোঃ আমিরুল ইসলাম ১০ হাজার, মোঃ দবির উদ্দিন ২০ হাজার  টাকা অর্থদন্ড করেন। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে উল্লেখিত স্থান থেকে ৩টি খননযন্ত্র এবং দুইটি মাটি টানায় ব্যবহৃত ট্রাক্টর জব্দ করা হয়। ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা প্রদান করেন শেরপুর থানা পুলিশ।

অন্যদিকে, ২০ ডিসেম্বর রোববার শেরপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্যবিধির উপর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। এ সময় স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ১০ জনকে ২ হাজার ৬শ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং এক্সিকিউটিভ সাবরিনা শারমিন। এছাড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে মাইকিং করা হয় এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য লোকজনকে অনুরোধ করা হয়।
১৬ ডিসেম্বর বিকেল ৩ টায় উপজেলার ছোট ফুলবাড়িতে মাদক বিরোধী অভিযান চালানো হয়। মোবাইল কোর্ট চলাকালীন মাদক সেবনরত অবস্থায় মোঃ আবু জাহেদকে গাঁজাসহ আটক করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুসারে তাকে ৮ মাসের সশ্রম কারাদন্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়।

১৩ ডিসেম্বর বগুড়া জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নির্দেশনা মোতাবেক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার লিয়াকত আলীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের পানিসারা , কুসুম্বী ইউনিয়নের আমন, টুনিপাড়া, গাড়ীদহ ইউনিয়নের হাপুনিয়া, শাহ বন্দেগী ইউনিয়নের ঘুটু বটতলা ,উচরং এর বিভিন্ন স্থানে ফসলি জমি রক্ষায় ও অবৈধভাবে মাটিকাটা বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা শারমিন। এ সময় “বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০” অনুসারে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে বিভিন্ন স্থান থেকে ৫ টি খননযন্ত্র জব্দ করা হয়।
৯ ডিসেম্বর উপজেলার সুঘাট ইউনিয়নে বাঙ্গালি নদী রক্ষার্থে ও অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা শারমিন এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয়। এ সময় “বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০” অনুসারে ১ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি এস্কেভেটর ও দুইটি মাটি টানায় ব্যবহৃত ট্রাক্টর জব্দ করা হয়।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাবরিনা শারমিন বিডি২৪লাইভকে বলেন, জনস্বার্থে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা অব্যাহত আছে এবং থাকবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.