১৪ শতাংশ শিক্ষার্থী অস্বচ্ছল, অনলাইনে ক্লাস করার ডিভাইস নেই

0 8

দেশের সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ৩৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪২ হাজার শিক্ষার্থী অস্বচ্ছল, যাদের অনলাইনে ক্লাস করার মতো প্রয়োজনীয় ডিভাইস নেই কিংবা ইন্টারনেট খরচ চালানোর মতো সুযোগ নেই। যার গড় হার প্রায় ১৪ শতাংশ।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনকে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের এই তালিকা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। যাচাই করে এই তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে ইউজিসি। এর আগে ইউজিসির এক নমুনা জরিপে দেখা গিয়েছিল গড়ে ১৫ শতাংশ শিক্ষার্থীর ক্লাস করার মতো কোনো ডিভাইস নেই।

অনলাইনে ক্লাসে বিষয়ে দেখভাল করার দায়িত্ব ইউজিসির সদস্য দিল আফরোজা বেগম দৈনিক শিক্ষাডটকমকে বলেন, অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীর তথ্যগুলো এখন যাচাই করা হচ্ছে। এগুলো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে ইউজিসি।
অনলাইন ক্লাস চালু করে তা বন্ধ করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে বেশকিছু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে। ডিভাইস সংকট, আর্থিক সক্ষমতা না থাকা, নেটওয়ার্ক সমস্যা এবং নির্দিষ্ট ক্লাস রুটিন ও শিক্ষা পরিকল্পনার অভাব—এসব কারণেই গতি পাচ্ছে না পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম। ফলে সেশনজটের আশঙ্কা করছেন শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা।

করোনার প্রাদুর্ভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পর পরই সেশনজট ঠেকাতে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেয়ার আহ্বান জানায় ইউজিসি। গত ২৩ মার্চ করোনা বন্ধের সময়ে অনলাইনে একাডেমিক কার্যক্রম চালানোর আহ্বান জানিয়ে দেশের সব পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি নির্দেশনা দেয় ইউজিসি। কমিশনের দেয়া চিঠিতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শিক্ষকদের অনলাইনে পাঠদান চালাতে উত্সাহ দেয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশ গবেষণা ও শিক্ষা নেটওয়ার্কের (বিডিরেন) ডাটা সেন্টারের জুম অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে বিনা খরচে এ অনলাইন কার্যক্রম চালানো সম্ভব। এ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য শিক্ষকদের বিডিরেনের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানানো হয়। এ ব্যবস্থায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ডেস্কটপ, ল্যাপটপ অথবা স্মার্টফোনের মাধ্যমে ইন্টারঅ্যাকটিভ শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে পারবে। তবে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনলাইনে ক্লাস নেয়া শুরু করলেও ইউজিসির এ আহ্বানে সাড়া পাওয়া যায়নি বেশির ভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের।

এ প্রসঙ্গে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর বলেন, একেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রমের অবস্থান একেক রকম। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইন ক্লাসের ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার আলোকে ক্লাস নেয়া হচ্ছে না। বিক্ষিপ্তভাবে কিছু বিভাগ তাদের নিজেদের মতো করে ক্লাস নিচ্ছে। আবার দেখা যাচ্ছে, একই ব্যাচের কয়েকজন ক্লাস নিচ্ছেন, বাকিরা নিচ্ছেন না। সব মিলিয়ে এক ধরনের সমন্বয়হীনতা রয়েছে। এতদিন এইচএসসি নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ছিল। এখন যেহেতু সরকার থেকে বলা হচ্ছে, জানুয়ারিতে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবেন। সে সিদ্ধান্তের আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দ্রুত তাদের শিক্ষা কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া উচিত।
অনলাইন ক্লাস এগিয়ে নেয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ না থাকাকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ প্রসঙ্গে বশেমুরবিপ্রবির একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী গত ১ জুলাই থেকে আমরা পুরোদমে ক্লাস শুরু করি। প্রথমদিকে শিক্ষার্থী অংশগ্রহণের হার ছিল ৫০-৬০ শতাংশ। এক পর্যায়ে সেটি ১০-২০ শতাংশেরও নিচে নেমে আসে। ৮০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে বাদ দিয়ে একাডেমিক কার্যক্রম এগিয়ে নেয়া সম্পূর্ণ অসম্ভব। তাই অনলাইন ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে।

Loading...