সাংবাদিকতা শেখার প্লাটফর্ম-এখন অনলাইন সংবাদ মাধ্যম

0 14

দেশ, জাতি ও সমাজের,উন্নয়ন এবং বিশ্বায়নের সাথে সংযোগ রক্ষায়,অনলাইন সংবাদমাধ্যমের কোন বিকল্প নেই। অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রতিনিয়তই উঠে আসছে,উপেক্ষিত সকল সংবাদ। মফস্বলের কৃষকের সফলতার সংবাদ থেকে শুরু করে,উচ্চপদস্থ কর্মকতাপদের করা নানা অনিয়ম,দুর্নীতি অধবা রাজনৈতিক নেতাদের দুঃশাসন, এবং সংশ্লীষ্ট প্রশাসনের অব্যাবস্থাপনা ও স্বেচ্ছারিতা সহ সকল খবরই প্রকাশ পাচ্ছে,অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে।

সংবাদ পাঠের মধ্যদিয়েই সংবাদের মূল্য শেষ হয়ে যায় না-বরং সংবাদমাধ্যম কাজ করছে,সত্য ও ন্যায়ের হাতিয়ার হিসেবে। যখনই যে ইস্যু গণমাধ্যমে আসছে,সংশ্লীষ্ট্যরা তা সমাধান ও উত্তরণের চেষ্টা করছে । ফলে গণমাধ্যমকে সংবিধানের ৪র্থ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যারা গণমাধ্যমে কাজ করেন, তাদেরও বিশেষ সম্মানের চোখে দেখা হয়। যেসব গণমাধ্যম সত্য,নিরপেক্ষ সংবাদ সংগ্রহ, প্রচার ও পরিবেশন করে, নিঃসন্দেহে ওই সব সংবাদমাধ্যম সমাজ উন্নয়নে ভুমিকা পালন করছে ।

মূলধারার সংবাদমাধ্যম যেমন, টেলিভিশন,রেডিও ও প্রিন্ট পত্রিকা ও অনলাইন টিভির পাশাপাশি বর্তমানে অনলাইন নিউজ র্প্রোটাল গুলো বেশ ভালো কাজ করছে। সংবাদ পরিবেশনে সক্ষমতা কিংবা দায়িত্বশীলতার দিক দিয়ে পাঠকের দৃষ্টি কেড়েছে এবং প্রশংসিত হয়েছে। এসব অনলাইন পোর্টালকে সুশৃঙ্খল করতে গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ইতিমধ্যই নিবন্ধনের আওতায় এনেছে।

সচ্ছ জবাবদিহিতার জায়গা তৈরি করতে পারলে,অনলাইন গণমাধ্যমও সঠিক, সত্য ও তথ্যবহুল সংবাদ পরিবেশনের দিকে নজর বাড়াবে বলে আশা করছি। এতে করে নিবন্ধনের মাপকাঠিতে অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরও তাদের বৈধ পরিচয়পত্র পাবেন। বাকি যেসব নিউজ পোর্টাল এখনো অনিবন্ধিত রয়েছে, সেখানে যেসব সংবাদ কর্মীরা কাজ করছেন,তারা সাংবাদিকতা চর্চার মধ্যদিয়ে আগাচ্ছে,যা তাদের আরো উৎসাহিত করছে।

এমতাবস্থায় বলা যেতে পারে-সাংবাদিকতা শেখার সবচাইতে বড় প্লাটফর্ম এখন অনলাইন গণমাধ্যম। এখন ও সাংবাদিকতার প্রতি অনেকেরই আগ্রহ আছে,কিন্তু যোগ্যতার ঘাটতি ও অভিজ্ঞতা না থাকায় অনেকেই মূলধারার গণমাধ্যমে কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না। তারাই ঝুঁকছেন অনলাইন গণমাধ্যমে। এটির ইতিবাচক দিক রয়েছে। প্রথম কথা হচ্ছে,তারা শিখতে পারছেন,কিভাবে সংবাদ সংগ্রহ করতে হয় এবং লিখতে হয়,পরিবেশন করতে হয়। অনলাইন গণমাধ্যমের দ্বারা শেখার মাধ্যমে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মূলধারার গণমাধ্যমে কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। শেখার আগ্রহ,ও দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে কাজ করলে এই অনলাইন গণমাধ্যমের দ্বারাও সাংবাদিকতায় প্রতিষ্ঠিত হওয়া সম্ভব।

একজন আগ্রহী তরুনকে সাংবাদিক হিসেবে কাজের সুযোগ করে দেয়ার মাধ্যমে যে শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করছে অনলাইন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো,নিশ্চই তা প্রশংসার দাবি রাখলেও অনলাইন র্প্রোটাল চালু করে-সংবাদদাতা নিয়োগের নামে অর্থ হাতিয়ে নেয়া সহ ভালো মন্দের বাদ বিচার না করেই শুধু টাকার জন্য মাদক ব্যাবসায়ী,ভ্যানচালক,পানের দোকানদার, অসাধু ও অযোগ্যদের কার্ড দিয়ে নানা বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন অনেক গনমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ।

এসব প্রতিষ্ঠান থেকে টাকার বিনিময়ে অসাধুরা কার্ড নিয়ে,সাংবাদিক পরিচয়ে,গো-বাসুরের সদ্য গজানো শিং যা সামনে পাবে তাতেই গুতোনের আর লাফানো আর লিপ্ত হয় চাঁদাবাজি ও অপসাংবাদিকতায়। আবার তারাই সংবাদ প্রকাশের নাম করে হাতিয়ে নিচ্ছেন টাকা। একজন ব্যক্তির অপরাধ সংশ্লিষ্টতা দেখে পত্রিকায় প্রকাশের ভয় দেখিয়ে টাকা নিয়ে সে বিষয় ধামাচাপা ও দেওয়ার চেষ্টা ও করছেন তারা ।

এ ধরনের অপসাংবাদিকতার কারনে প্রতিনিয়তই মূলধারার গণমাধ্যমের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। শুধু এই জায়গাটিতে একটু নজর দিতে পারলে অনলাইন মাধ্যম আরো পরিশীলিত হবে। মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে যেমন আয়ের সুযোগ আছে। ঠিক তেমনি অনলাইন র্প্রোটালেও বৈধ আয়ের পথ ‘গুগল এডসেন্স’ আছে। যারা মানদন্ড বজায় রাখতে পারে,তারা ‘গুগল এডসেন্স’ থেকে আয় করার মাধ্যমে বিনিয়োগকৃত পরিশ্রমের উপুযক্ত পারিশ্রমিক হাসিল করতে পারেন।

কিন্তু যাদের এ ব্যাপারে অভিজ্ঞতা নেই,তারা অনলাইন গণমাধ্যমকে পুঁজি করে চাঁদাবাজি, ভাঁওতাবাজিসহ নানান অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন। প্রতিনিয়তই যার কারণে বেড়েই চলেছে হলুদ সাংবাদিকতা। হাসপাতাল মালিক ,ডাক্তার,,রাজনৈতিক নেতা, চাদাবাজরাও এখন তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে,অনলাইন নিউজ পোর্টাল খুলছে-এগুলো চালাতে অযোগ্য লোকদের সাংবাদিক বা সম্পাদক বানাচ্ছে। আবার শুধু নিজের গুণকীর্তন প্রচারের জন্য অনেকে তৈরী  করছেন অনলাইন পোর্টাল। এটি মুলধারার গণমাধ্যমের জন্য অনেক বড় হুমকি।

এমতাবস্থায় মুলধারা গনমাধ্যম ও সংবাদ কর্মীদের  মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে অনলাইন সংবাদমাধ্যম এর জন্যে সরকারের ঘোষিত নিতিমালা বাস্তবায়ন জরুরী । মোঃ জাকির হোসাইন,লেখক সাংবাদিক,কলামিষ্ট ।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না।