‘সাঁই কখন খেলে কোন খেলা’, বুক ফাঁটা কান্নায় সাধুরা

0 16

শাহীন আলম লিটন, কুষ্টিয়া :  করোনা ভাইরাসের কারণে নেই কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ার লালন আঁখড়াবাড়ীতে ১লা কার্তিক কোন অনুষ্ঠান। ১৭ অক্টোবর ১লা কার্ত্তিক বাউল সম্রাট লালন সাঁইয়ের ১৩০তম তিরোধান দিবস। প্রতিবছর এই দিনটিকে ঘিরে সাধুরা নিজ নিজ রীতিতে ভাব বিনিময় করেন। বসে দেশের সবচেয়ে বড় বাউল সাধুদের হাট।

লাখো ভক্ত আশেকানের পদচারনায় মুখ হয় আঁখড়াবাড়ী। এছর লালন আঁখড়া বাড়ীর মুল ফটকে লাগানো তালা। সাধুদের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। দুর থেকে এক পলক দেখছেন সাঁইজির মাজার। সাধুদের বুক ফাটা কান্নায় ভারী আঁখড়াবাড়ী। আঁখড়াবাড়ির আঙিনায় বসেনি সাধুদের হাট, ঘটেনি ভাবের আদান প্রদান। দৌলতপুর থেকে আসা সাধু আফসার ফকির বলেন, “সাঁই কখন খেলে কোন খেলা’ সত্যিই আমাদের বোঝা দায়। করোনা নাম অদৃশ্য শক্তির কাছে হার মেনে সাঁইয়ের অদৃশ্য খেলায় মানবকুলের সকলেই এখন নিজেকে মুক্ত রাখতে মত্ত।” তিনি বলেন, “আমরা যারা সাধু-ভক্তরা আছি, এই আঁখড়াবাড়ীতে সাঁইজির ধামে আসতে পারলে মনের খুরাক মেটে। সাঁইজির কথা গুলো যে টুকি জানি সেটা অপরকে জানানোর চেষ্টা করি। আমরা তো মানুষ জাতি, আমাদের তার লীলা বোঝা সাধ্য নেই।” সাঁইজি তাঁর বানীতে বলেছেন ‘আঠারো হাজার মোকামের মাঝে জ¦লছে যেন রুপের বাতি’ এ এক আজব কুদরতি’ তাই এ আজব কুদরতির লীলায় সঙ্গ দিতে সাধুরা ছুটে আসতে পারছে না সাঁইজির ধামে।”

ফকির করীম শাহ বলেন, “আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে মুক্তির পথ খুঁজতে আসি আমরা। বছরে দুইবার আঁসি নিজ নিজ আশ্রম ছেড়ে সাঁইজির আশ্রমে। করোনার কারণে দোল পূর্ণিমার উৎসব স্বল্প পরিষরে হয়েছিলো। তবে দোল পূর্ণিমায় আমরা সাঁইজির আশ্রমে ঢুকে সাধু সঙ্গ করেছিলাম। আর এবার তো গেটেই তালা দেওয়া। সাঁইজির আশ্রমে যেতে না পারা যে কতটা কষ্টের সাধুদের কাছে তা কেউ বুঝবে না।”

এদিকে লালন আঁখড়াবাড়ীর আসে পাশের সকল দোকানপাটও বন্ধ, বসেনি গ্রামীন মেলা কিংবা বাউল শিল্পীদের গানের আসরও। তবে সাধু-গুরু দর্শনের মহামিলন না ঘটায় সাধুদের অন্তরে ব্যাথা বেড়েছে কিন্ত মাবন কল্যানের স্বার্থে বিরহ ব্যাথা নিয়ে সাঁইজিকে স্মরণ করবে নিজ আঙিনায় নিজস্ব রীতিতে। সাঁইজির আশেকানরা অশ্রু ভেজা নয়নে দূর থেকে ফিরে যাচ্ছে। বিরহ ব্যাথা নিয়ে সাঁইজির মাজার খুলে দেওয়ার আকুতি সাধু ভক্তদের। ১২৯৭ বঙ্গাব্দের ১লা কার্তিক সাধক পুরুষ ফকির লালন সাঁই দেহত্যাগ করেন।

এরপর থেকে তাঁর ভক্ত ও অনুসারীরা আঁখড়া বাড়িতে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করে আসছেন। এখানে কেউ ছুটে আসেন আত্মার শুদ্ধির মাধ্যমে মনের মানুষের সন্ধানে। আবার কেউ ছুটে আসেন আত্মার মুক্তির মধ্য দিয়ে পরমাত্মার সান্নিধ্য পেতে। যেটার কোনটাই হচ্ছে না এবার। তাই মনের ব্যাথা মেনে নিয়ে সাঁইজিকে স্মরণ করতে হবে নিজ নিজ ধামে।

Loading...