সরকার তো শুধু আলুর দাম বেঁধে দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে দিয়েছে

0 32

আব্দুল ওয়াদুদ :  সরকার আলুর দাম ৩০ টাকা কেজি নির্ধারণ করে দিলেও বগুড়ায় বিভিন্ন বাজারে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা বলছেন, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে ব্যবসায়ীরা তাদের জিম্মি করে ফেলেছেন। তবে প্রশাসন বলছে, বিষয়টি নজরদারির মধ্যে রয়েছে। সরকার আলুর দাম বেঁধে দিয়েছে হিমাগারে প্রতি কেজি ২৩, পাইকারী ২৫ এবং খুচরা বাজারে ৩০ টাকা। তবে বাস্তব চিত্র আগের মতই। বগুড়ার খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা দরে। পাইকারী ৪০ থেকে ৪৪ এবং হিমাগারে ৩৫ থেকে ৩৯ টাকা।

বগুড়ার পাইকারী ও খুচরা বাজারগুরো ঘুরে এসব চিত্র পাওয়া গেছে। পাইকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন, হিমাগার থেকে দাম বেশি নিচ্ছে। এ কারণে বেচতে হচ্ছেও বেশি দামে। সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সেই দামে কিনতে পারলে পাইকাররা বেচতেও পারবে।
বগুড়ায় আলুর কোল্ড স্টোরেজ রয়েছে ৩৫ টি। এই স্টোরগুলোতে বছরের প্রথমে ২ লাখ ৭৬ হাজার মেট্রিক টন আলু মজুদ ছিল। বর্তমানে মজুদ আছে ৭০ মেট্রিক টন। মৌসুমের শুরুতে আলুর দাম ছিল প্রতি কেজি ২০ টাকা। এখন এর দ্বিগুন দামে আলু বিক্রি হচ্ছে। হিমাগার ব্যবসায়ী সমিতিও বলছেন আলুর দাম স্বাভাবিক হতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।
গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) আলুর দাম নির্ধারণ করে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর থেকে দেশের সব জেলা প্রশাসকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, এই দামে আলু বিক্রি না করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) শেরপুরের রেজি: বাজারের ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলাম, লালমিয়া, চানমিয়া, ইয়ামিন, ওসমান আলম, মজনু, মজিদ জানান, ৪২ টাকা পাইকেরি ক্রয় করে আমরা ৪৫ টাকা বিক্রয় করছি। হিমাগারেই আলুর দাম বেশি। এ ক্ষেত্রে খুচরা বাজারে তাদের কোনো হাত নেই। বগুড়ার রাজাবাজার, ফতেহ আলী ও কলোনী বাজারে সরেজমিনে দেখা যায় আলুর দাম আগের মূল্যেই বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা দাবি করেছেন, হিমাগারেই আলুর দাম বেশি। এ ক্ষেত্রে খুচরা বাজারে তাদের কোনো হাত নেই।

রাজাবাজারের পাইকারী ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম জানান, হল্যান্ড জাতের আলু প্রতি কেজি ৪২ টাকা দরে। পাকড়ি জাতের আলু ৪৪ টাকা দরে। এসব আলু হিমাগার থেকে কিনতে হয়েছে ৩৮ থেকে ৩৯ টাকা কেজি দরে। সেখান থেকে আলু বাজারে আনতে প্রতি কেজিতে খরচ হয় তিন টাকা। সোবাহান আলী নামে আরেক ব্যবসায়ী বলেন, হিমাগার থেকে আলু কম দিচ্ছে। তারা তো সরকারি দামে আলু দিচ্ছে না। তাহলে আমরা কীভাবে বিক্রি করব? আলুর পাইকার মহিরউদ্দিন বলেন, আমরা ছোট ব্যবসায়ী। অল্প পুঁজি দিয়ে আলু ক্রয় করে বাজারে বিক্রি করি। বেশি দামে এনে কম দামে বেচলে তো ব্যবসাই টিকবে না। এই পাইকারদের ভাষ্য, সরকার হিমাগারে নির্ধারিত দাম নিশ্চিত করুক। তাহলে তারাও কম দামে বেচতে পারবে। রাজাবাজারের পাশেই খুচরা বাজার ফতেহ আলী কাঁচাবাজার। রেললাইন পার হয়েই এ বাজারে আলুর বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি পাকড়ি ৫০ টাকা দরে। আর হল্যান্ডের আলু ৪৫ টাকা। কলোনী বাজারেও একই দামে বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। তাদের সবার একই কথা সরকার দাম নির্ধারণ করেছে। সেটি বাস্তবায়ন হলে, তারাও কম দামে বেচতে পারবে।

ফতেহ আলী বাজারের ব্যবসায়ী আকবর আলী জানান, তার এক মণের মত আলু লাগে। এই পরিমাণ আলু হিমাগার থেকে কিনে আনা সম্ভব নয়। এতে খরচ আরও বেশি পড়বে। কলোনী বাজারের ব্যবসায়ী এবাদুর ও দুলাল জানান, সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রেতাও কমেছে। বেশি দাম দিয়ে কিনেও লাভ নেই। বেচতে পারছেন না। দাম স্বাভাবিক হলে ব্যবসায়ীদের জন্যও ভাল। ক্রেতা জিন্নাহ বলেন, সরকার তো শুধু দাম বেঁধে দিয়ে দায়িত্ব শেষ করে দিয়েছে। কিন্তু ভুক্তভোগী হচ্ছি তো আমরা। কেন দাম বাড়লো, কে দাম বাড়ালো তা খতিয়ে দেখা দরকার সরকারের।

হিমাগার থেকে আলু প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে শ্রমিক মজুরিসহ আনুষঙ্গিক আরও কিছু টাকা ব্যয় হয়। এসব তথ্য দিয়েছে জেলার কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন। সরকারের আলুর দাম বেঁধে দেয়ার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানান নর্থ বেঙ্গল কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, তবে এই দাম স্বাভাবিক হতে কিছু দিন সময় লাগবে। কারণ আজকে যে আলু হিমাগার থেকে বের হয়, সেটি বিক্রির উপযোগী করতে কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা শুকাতে হয়। এ জন্য রাতারাতি দাম কমবে না। সহ সভাপতি আরও বলেন, এবার আলুর উৎপাদন কম ছিল। আবার রপ্তানিও বেশি হয়েছে।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক জিয়াউল হক বলেন, আলুর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসনের পক্ষে থেকে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানো হচ্ছে। একই সাথে বাজার মনিটং করার জন্য সকল ইউএনও মাঠে কাজ করছে। খুব দ্রুতই সাধারণ জনগণ এর সুফল ভোগ করতে পারবেন।

Loading...