নন্দীগ্রামে ১৩ বছর ধরে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে লাইব্রেরী

0 12

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি : বগুড়ার নন্দীগ্রামে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে ১৩ বছর ধরে জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে একটি লাইব্রেরী। উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের হাটকড়ই সড়কের পাশে দামরুল গ্রামের অবস্থিত। লাইব্রেরী দেখভাল করেন ৭৫ বছরের বৃদ্ধ রওশন আলম।

জানা গেছে, ২০০৭ সালের ৩ মার্চ দামরুল পশ্চিমপাড়া গ্রামে লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা করেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অবসরপ্রাপ্ত) কোহিনুর বেগম। তিনি দামরুল গ্রামের মরহুম ইমান উদ্দিনের কন্যা। লাইব্রেরী করার জন্য জায়গা দিয়েছেন কোহিনুর বেগমের চাচাতো ভাই হাবিবুর রহমান ও সাইফুল ইসলাম। এদের মধ্যে সাইফুল একটি প্রতিষ্ঠানের সহকারি শিক্ষক। চাচা আলতাব উদ্দিন, বাবা ইমান উদ্দিন এবং মাতা কায়ছান বিবির নাম অনুসারেই লাইব্রেরীর নামকরণ করেন কোহিনুর বেগম। তিনি ঢাকা এবং কানাডায় বসবাস করার কারণে বাৎসরিক উৎসবে লাইব্রেরীতে আসেন। ধর্মীয়, উপন্যাস সহ বিভিন্ন ধরণের বই রয়েছে লাইব্রেরীতে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা হয় বৃদ্ধ রওশন আলমের সাথে। তার বাড়ির পাশেই লাইব্রেরী। তিনি বলেন, অবসর বাড়িতে বসেই থাকি, এজন্য নিজেই লাইব্রেরী দেখাশোনা করি। সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত লাইব্রেরী খোলা থাকে। অবসর সময়ে আশপাশের গ্রামের তরুণ, যুবক, বৃদ্ধ থেকে শুরু করে বইপ্রেমি নারী-পুরুষ এখানে এসে বই পড়েন। কেউ কেউ বই বাড়িতে নিয়ে গেলেও পরে লাইব্রেরীতে ফিরিয়ে দেয়নি বলে দু:খ প্রকাশ করেন তিনি। অনেক বই পুরাতন হয়ে গেছে। নতুন বই না থাকার কারণে পাঠাগারে বইপ্রেমিদের আসা-যাওয়া কমছে। আলতাব উদ্দিন, ইমান উদ্দিন এন্ড কায়ছান লাইব্রেরী নামে পরিচিত এই পাঠাগারকে টিকিয়ে রাখতে গ্রামবাসীর যৌথ সমন্বয়ে রয়েছে একটি পরিচালনা কমিটি। পাঠাগার কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বৃদ্ধ রওশন আলমকে।

বইপ্রেমি আব্দুল্লাহ আল নোমান ও রাসেল মাহমুদ জানায়, লাইব্রেরীতে প্রায় সবই পুরাতন বই। এজন্য বইপ্রেমিদের আসা-যাওয়া কমছে। নতুন বই সংগ্রহ থাকলে পাঠকের ভিড় বাড়বে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নজর দিলে এই লাইব্রেরীটি আরও আলো ছড়াবে।

জানতে চাইলে ভাটগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, পাঠাগারের কমিটি চাইলেই নতুন বই দেয়া হবে। এরআগে পাঠাগারে একটি সোলার দেওয়া হয়েছে।

Loading...