ডিবিএল সিরামিকসের বিরুদ্ধে ‘রাজস্ব ফাঁকি’র অভিযোগ

0 6

বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় গ্রুপ ডিবিএল গ্রুপ (দুলাল ব্রাদার্স লিমিটেড)। এ গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ডিবিএল সিরামিকস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রকৃত উদপাদন গোপন রেখে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এনবিআর সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে উৎপাদনে আসা প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন কম দেখিয়ে সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছে। পরে এনবিআরের নির্দেশে ভ্যাট গোয়েন্দা তা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয়। সম্প্রতি এক অভিযানে মূসক নিরীক্ষা, গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটন করে মামলা করেছে। গাজীপুর শ্রীপুর ধনুয়া এলাকায় অবস্থিত ডিবিএল সিরামিকস লিমিটেড।
গত ৪ মার্চে গাজীপুরে প্রতিষ্ঠানটির কারখানা ও গুলশানে করপোরেট অফিসে (বাড়ি-৩৪, রোড-৩, গুলশান-১) অভিযান পরিচালনা করে ভ্যাট গোয়েন্দার গঠিত টিম। বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি করে বাণিজ্যিক দলিলাদি জব্দ করা হয়। একইসঙ্গে কারখানায় মজুত কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্যের হিসাব নেন ভ্যাট কর্মকর্তারা। প্রতিষ্ঠানটির উপস্থাপিত দলিলাদি, সরেজমিনে প্রাপ্ত মজুত পণ্যের সঙ্গে বিক্রয় হিসাব দলিলের ব্যাপক গরমিল পাওয়া যায়। করপোরেট অফিসে বিপুল পরিমাণ বিক্রয় চালান জব্দ করা হয়। পরে এসব গড়মিল যাচাই করে ফাঁকি উদ্ঘাটন করে মামলা করা হয়।

মামলার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি ২০১৮ সালের ১০ জুলাই থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত ৪৫০টি প্যারালাল চালানের মাধ্যমে বিভিন্ন সাইজের ৩১ লাখ ৮৪ হাজার ৬২১ বর্গফুট টাইলস সরবরাহ করেছে, যাতে রাজস্ব দেওয়া হয়নি। ৩১ লাখ ৮৪ হাজার ৬২১ বর্গফুট টাইলসের সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য মূল্য ১৪ কোটি তিন লাখ ২২ হাজার ৮২৯ টাকা, যার বিপরীতে প্রযোজ্য সম্পূরক শুল্ক দুই কোটি ১০ লাখ ৪৮ হাজার ৪২৪ টাকা এবং ভ্যাট দুই কোটি ৪১ লাখ ৭৫ হাজার ৩২৫ টাকা। মোট রাজস্ব ফাঁকি (সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট) চার কোটি ৫২ লাখ ২৩ হাজার ৭৫০ টাকা।
আরও দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানে ৬৭ লাখ ৭৮ হাজার ১৮৮ দশমিক ৬৩৫ বর্গফুট বিভিন্ন সাইজের ফ্লোর এবং ওয়াল টাইলস মজুত পাওয়া যায়। অথচ বিক্রয় হিসাব রেজিস্টারে উৎপাদিত সমাপনী মজুত দেখানো হয়েছে এক কোটি ১৪ লাখ ২৯ হাজার ৮৬ দশমিক ৪৮ বর্গফুট। অর্থাৎ সরেজমিন পরিদর্শনে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় হিসাব অপেক্ষা ৪৬ লাখ ৫০ হাজার ৮৯৭ দশমিক ৮৪ বর্গফুট কম পাওয়া যায়, যা রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি বাজারে সরবরাহ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি এর কোনো জবাব বা হিসাব দিতে পারেনি। ৪৬ লাখ ৫০ হাজার ৮৯৭ দশমিক ৮৪ বর্গফুট টাইলসের সম্পূরক শুল্ক আরোপযোগ্য মূল্য ২১ কোটি ৩৫ লাখ ৭০ হাজার ১৪২ টাকা, যাতে প্রযোজ্য সম্পূরক শুল্ক তিন কোটি ২০ লাখ ৩৫ হাজার ৫২১ টাকা ও ভ্যাট তিন কোটি ৬৮ লাখ ৪০ হাজার ৮৪৯ টাকা।
মোট রাজস্ব ফাঁকি (সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট) ছয় কোটি ৮৮ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭০ টাকা। ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব দুই শতাংশ হারে সুদ হিসাব করলে ফাঁকির পরিমাণ বেড়ে যাবে। অপরদিকে দ্বৈত কর পরিহারের লক্ষ্যে ৩১ লাখ ৮৪ হাজার ৬২১ বর্গফুট টাইলস প্রযোজ্য রাজস্ব চার কোটি ৫২ লাখ ২৩ হাজার ৭৫০ টাকা হিসাব করা হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখবে ভ্যাট কমিশনারেট।
এনবিআর সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানের ফাঁকি দেওয়া রাজস্ব আদায় ও ন্যায় নির্ণয়ের জন্য মামলা ঢাকা ভ্যাট উত্তর কমিশনারেটে পাঠিয়েছে ভ্যাট গোয়েন্দা। প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি রাজস্ব ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান বিবেচনায় নিয়ে নজরদারি বাড়ানো, মাঝে মাঝে ঝটিকা অভিযান এবং নিয়মিত দাখিলপত্র যাচাই করতে অনুরোধ করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা। প্রতিষ্ঠানটির আরও রাজস্ব ফাঁকি উদ্ঘাটনে প্রতিষ্ঠানটিকে নিরীক্ষার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে ভ্যাট গোয়েন্দা।

তবে রাজস্ব ফাঁকির বিষয়ে ডিবিএল থেকে কোন মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে যাত্রা শুরু করে ডিবিএল গ্রুপ। পোশাক দিয়ে শুরু হলেও বর্তমানে সিরামিক টাইলস, তথ্যপ্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ, ড্রেজিং, ওষুধসহ গ্রুপের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৪টি।
সূত্র: শেয়ারবিজ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না।