আক্কেলপুরে হাফ সেঞ্চুরী করেছে আলুর দাম

0 1

মওদুদ আহম্মেদ, আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধিঃ জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে সরকার নির্ধারিত আলু সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়েছে আক্কেলপুরের আলু ব্যবসায়ীরা। সরকার আলুর দাম নির্ধারন করে দিয়েছে হিমাগার পর্যায়ে সর্বোচ্চ মূল্য ২৩ টাকা, পাইকারি/আড়ত সর্বোচ্চ মূল্য ২৫ টাকা ও খুচরা সর্বোচ্চ ৩০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রয়ের নির্দেশ দিয়েছেন, কিন্তু আক্কেলপুর উপজেলার বাজার গুলো থেকে দ্বিগুণ দামে আলু কিনতে হচ্ছে। কুড়ি টাকা থেকে বাড়তে বাড়তে বর্তমানে হাফ সেঞ্চুরির করে ফেলেছে, প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। এতে করে সাধারণ মানুষের জীবিকা নির্বাহ কঠিন হয়ে পড়েছে।

উপজেলা কয়েকটি হাট ও বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজির দোকান গুলো ও আলুর আড়ৎ গুলোতে পর্যাপ্ত পরিমান আলু আছে। আলুর বাজারে নেই বলে আলুর কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়েই চলেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। গত বছর এ সময় আলু কেজি প্রতি ১৮ থেকে ২২ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, সেই আলু এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। মানা হচ্ছেনা সরকারি নির্ধারিত মূল্য। প্রকার ভেদে আলু সাদা পাকরী ৪৫ টাকা, গেরিলা- ৩০ টাকা, কার্ডিনাল-৪০ টাকা, তিলকপুরা ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় করা হচ্ছে। এর আগে কখনও এতো চড়া দামে আলু বিক্রি হয়নি। আলুর দাম বাড়ায় দিন আনা দিন খাওয়া সাধারণ মানুষের জীবিকা নির্বাহ করতে হিমসিম খেতে হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আলুর মজুদ কমে আসায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যাপারীরা দাম বাড়িয়ে সরবরাহ করছেন। কোল্ড স্টোরেজ থেকে চাহিদা অনুযায়ী আলুর সরবরাহ হলেও পাইকারি ও খুচরা বাজারে বেশি দামে পণ্যটি বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে আলু কম তাই আলুর দাম বেড়েছে। যা আমাদের কাছে ছিল, সব বিক্রি হয়ে গেছে। ডায়মন্ড লাল গোল আলু ও ডায়মন্ড সাদা গোল আলু ও তিলকপুরা আলুর একটু বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির দাম বাড়ায় আলুর চাহিদা বেড়েছে। আর এদিকে আলুও বাজারে প্রায় শেষ। যার কারণে আলুর দাম এত বেশি। নতুন আলু না আসা পর্যন্ত এমন ভোগান্তি পোহাতে হবে বলে জানান তারা।
আলু কিনতে আসা অটোরিকশা চালক শহিদুল ইসলাম বলেন, বাঁচার উপায় কি? সারাদিনের কামায় পুরাটাই এখন বাজার খরচে চলে যায়। আলু, ডাল, ডিম কিছুই সস্তা নাই। এমন চলতে থাকলে তো আমাদের পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকা কষ্টকর হবে।

আক্কেলপুর কলেজ বাজারে আলু কিনতে আসা কয়েকজন ক্রেতার সাথে কথা বল্লে তারা বলেন, আমরা কখনো এতা দামে আলু কিনি নাই এবারই প্রথম এতো দামে কিনলাম আর শুধু আলুই নয় কাঁচা সবজির দাম ও আমাদের নাগালের বাহিরে। তারা আরো বলেন, প্রশাসনের যদি এ বিষয়ে নজর দিতো তাহলে হয়তো এতো দাম বেশি হতো না জিনিসপত্রের। তাই প্রশাসনের দ্রুত বাজার মনিটরিং করা প্রয়োজন।

এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম হাবিবুল হাসান বলেন, আমাদের দেশের পর্যাপ্ত আলু আছে। সরকার আলু সরাসরি হিমাগার থেকে ২৩ টাকা এবং বাজারে পাইকারি ২৫ টাকা এবং খুচরা ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রয় করার নির্দেশ দিয়েছে। এ বিষয়ে বাণণিক সমিতির সাথে কথা বলে নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। এই নির্দেশ যদি কেও অমান্য করে অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এছাড়াও আমাদের মনিটরিং চলমান রয়েছে।

Loading...