অনলাইনে ট্যাক্স দিতে ভোগান্তি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন

0 7

অনলাইনে ট্যাক্স দিতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) বাসিন্দাদের। অনলাইনে ট্যাক্স প্রদান সিস্টেম প্রথম চালু হওয়ায় অনলাইন আইডি নম্বর নিতে বাড়ি ও ফ্ল্যাট মালিকদের আঞ্চলিক অফিসগুলোতে সশরীরে হাজির হতে হচ্ছে। সেখানে ই-হোল্ডিং নম্বর এবং টাকা জমা দিতে দীর্ঘ লাইন। এতে করোনার মধ্যে ট্যাক্স দিতে বিপাকে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে।
হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে মিরপুর ও কাওরানবাজার এ দু’টি অঞ্চলে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে ডিএনসিসি। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হোল্ডিং ট্যাক্স দিলে ১০ শতাংশ ছাড় দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। শাস্তির ভয় এবং সুযোগ নিতে আঞ্চলিক অফিসগুলোতে হোল্ডিং ট্যাক্স দিতে এখন নগরবাসীর ভিড় জমেছে।

গুলশান-২ ৪৩ নম্বর রোডের ২৯ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা হারুনুর রশীদ। গতকাল সোমবার ডিএনসিসির অঞ্চল-৩ অফিসে চারটি ফ্ল্যাটের হোল্ডিং ট্যাক্স দিতে আসেন। তিনি জানান, ই-হোল্ডিং নম্বর নিতে স্লিপ দিয়ে আধা ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এরপর টাকা জমা দিতে আরো এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে যখন কাউন্টারের কাছে গেলাম তখন একটি হোল্ডিংয়ের বিষয়ে জানালো স্লিপে মাত্র দুটি শব্দ বেশি হয়ে গেছে, সে জন্য টাকা জমা নেয়া যাবে না। ফলে ওই হোল্ডিংয়ের টাকা জমা না দিয়েই আমাকে ফিরে যেতে হচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, ই-হোল্ডিং নম্বর দিতে ৫০-১০০ টাকা ঘুষ দিলে তাকে দ্রুত দেয়া হচ্ছে, অন্যথায় দেরি করা হচ্ছে। আবার বলা হচ্ছে সার্ভার কাজ করছে না। একইভাবে অফিসে সরাসরি হাতে টাকা জমা দিতে গেলেও ৩০-৪০ টাকা বেশি রাখা হচ্ছে।

মগবাজার মধুবাগের বাসিন্দা ষাটোর্ধ্ব শাহিনুর হোসেন খান অনলাইনে টাকা জমা দেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ১০ টার সময় এসেছি। লাইনে দাঁড়িয়ে ই-হোল্ডিং নম্বর নেয়ার পর টাকা জমা দেয়ার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখন ১২টা বাজে কিন্তু টাকা জমা দিতে পারিনি। সামনে আমার এখনো ১০ জনের মত রয়েছে। আরো এক ঘণ্টা লাগতে পারে জমা দিতে।
তিনি বলেন, আগে হাতেহাতে টাকা জমা দিতাম, সেটাই ভালো ছিল। কম সময়েই হয়ে যেত। এখন এলাম, বলছে সার্ভার নাই। সেখানে সময় লাগল। এখন আবার লাইনে দাঁড়িয়ে অনেক সময় চলে গেল। করোনার মধ্যে এভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকাও বিপজ্জনক। এত ভিড়ের মধ্যে কেন এসেছেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যে টাকা জমা দিলে ১০ শতাংশ ছাড় পাওয়া যাবে, এ জন্য আগেভাগে জমা দিতে এসেছি। ২০২০-২১ অর্থবছরে ২৯ হাজার টাকার মতো হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ করবেন বলে তিনি জানান।

রামপুরার হাজীপাড়া পেট্রলপাম্প এলাকা থেকে রেজওয়ান আলী হোল্ডিং ট্যাক্স দিতে আসেন। তিনি বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং সব জায়গায় পাওয়া যায় না। এ জন্য ভিড়ের মধ্যেও অফিসে এসেছি। ১০ শতাংশ ছাড় পেতেই দ্রুত পরিশোধ করছেন বলে তিনি জানান। তবে ট্যাক্স দিতে কোথাও অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়নি বলে জানান রেজওয়ান। এ বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৩ এর কর কর্মকর্তা মো: তছলিম উদ্দীন বলেন, বর্তমানে দুটি অঞ্চলে চিরুনি অভিযান চলায় সেখানে লোকবল দিতে হচ্ছে। এ কারণে লোকবল সঙ্কট রয়েছে। অল্প লোক দিয়ে কাজ করতে গিয়ে করদাতাদের লাইন দিতে হচ্ছে। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১০ শতাংশ কর ছাড় রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ মাসের শেষদিকে ভিড় আরো বাড়বে।

তছলিম উদ্দীন বলেন, প্রথমবারের মতো অনলাইনে ট্যাক্স নেয়ায় ই- হোল্ডিং নম্বর নিতে অফিসে আসতে হচ্ছে। পরবর্তীতে ঘরে বসেই তারা ট্যাক্স দিতে পারবেন। তখন আর লাইনে দাঁড়াতে হবে না। ট্যাক্স প্রদানে কোনো রকম অনৈতিক লেনদেন হচ্ছে না বলেও তিনি দাবি করেন। ডিএনসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল হামিদ মিয়া বলেন, ডিএনসিসির বর্তমানে দুই লাখ ৪৪ হাজার হোল্ডিং রয়েছে। তাদের ই- হোল্ডিং নম্বর গত বছরই বাসার ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে এজেন্ট ব্যাংকিং বর্তমানে একটি থাকায় এবং অনলাইন সিস্টেম নতুন চালু হওয়ায় অনেকে অফিসে এসে টাকা জমা দিচ্ছেন। এ জন্য কিছুটা ভিড় হচ্ছে। তবে একবার ই- হোল্ডিং নম্বর পেলে আর তাদের নগরভবনে আসতে হবে না। অনলাইন সিস্টেমের সার্ভারের কাজ এখনো চলমান রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আমরা পুরোপুরি অটোমেশনে যাবো। টাকা জমা দেয়ার জন্য বিকাশ, নগদসহ সব মাধ্যম চালু করা হবে। এরপর আর কোনো নাগরিককে হোল্ডিংসহ অন্যান্য ট্যাক্স দিতে নগরভবনে আসতে হবে না।

Loading...