৪৫ কিলোমিটার যানজটে বাড়ি ফেরা মানুষের চরম দুর্ভোগ

0 2

রাত পোহালেই ঈদের দিন। আর ঈদের খুশি পরিবারের মানুষের সাথে ভাগাভাগি করে নিতে ঈদের একদিনে আগে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছেন হাজার হাজার মানুষ। বিপুল পরিমাণ মানুষের ঈদযাত্রা মহাসড়কে সৃষ্টি করেছে তীব্র যানজট। অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলার কারণে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে আজ শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল পর্যন্ত তিন ঘণ্টা ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা বন্ধ ছিল। এ ছাড়া যাত্রী ও যানবাহনের অস্বাভাবিক চাপের কারণে গতকাল মধ্যরাত থেকে পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। আজ দুপুর ১২ টার দিকে ঘাট এলাকা ছেড়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজটের সৃষ্টি হয়।

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে গোলড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, পাটুরিয়া দৌলতদিয়া নৌ-রুটে ফেরি চলাচল ব্যহত হওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে মহাসড়কে। সর্বশেষ মহাসড়কের পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকা থেকে ঢাকার ধামরাই উপজেলার কালামপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত অপেক্ষামান যানবাহনের সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় একদম থেকে আছে যান চলাচল। যানযট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে হাইওয়ে পুলিশ। তবে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপের কারণে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে বলে জানান তিনি। মহাসড়কের মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যানযটে আটকে থাকা প্রাইভেট কার যাত্রী আনোয়ার হোসেন বলেন, যানজট এড়াতে ঢাকার মোহাম্মদপুর থেকে ভোরে রওয়ানা হয়ে সাত ঘন্টায় মানিকগঞ্জে এসেছেন। ঘাটে পৌঁছাতে এখনো বাকী রয়েছে আরও ৩৫ কিলোমিটার। বিকল্প কোন মাধ্যম না থাকায় ভোগান্তির পরেও ঘাটমুখী যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন তিনি।
ব্যক্তিগত গাড়িতে করে পরিবার নিয়ে ফরিদপুরে গ্রামের বাড়িতে ঈদ করতে যাচ্ছিলেন এস এম ফেরদৌস। তিনি বলেন, গতকাল রাত ১০টার দিকে প্রাইভেটকার নিয়ে ঘাটের অদূরে পৌঁছান তিনি। আজ সকাল ১০টায় তিনি ফেরিতে উঠতে পারেননি। স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে সারা রাত চরম দুর্ভোগ সহ্য করতে হয়। বেশ কয়েকজন যাত্রী অভিযোগ করে বলেন, যাত্রী ও যানবাহন পারাপার নিশ্চিত করতে প্রতিবছরই ঈদের আগে ঘাটে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে এবার তেমনটা না থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা ঘাট এলাকায় আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গি থেকে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের চিত্র দেখা গেছে। এছাড়া ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাড়কের চিত্রও একই। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো যাত্রীরা। এদিকে যানজট নিরসনে কাজ করছে পুলিশ। একই সঙ্গে মানুষের জানমালের নিরাপত্তার দিকটিও দেখতে হচ্ছে পুলিশকে। ধারণা করা হচ্ছে আজ বিকাল লাগাদ যাত্রীদের ভিড় আরও কিছুটা বাড়তে পারে। ফলে যানজটও আরও দীর্ঘ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশ জানায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের চাপ এবং সড়কের ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যান চলাচল করায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে যানবাহন অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। চান্দনা চৌরাস্তা, ভোগড়া বাইপাস মোড়সহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টে থেমে থেমে গাড়ি চলছে। শেষ মুহূর্তে বাসে জায়গা না পেয়ে অনেক যাত্রী ট্রাকসহ বিভিন্ন বাহনে চড়ে গন্তব্য ছুটছেন। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী, বোর্ডবাজার, চান্দনা চৌরাস্তা, রাজেন্দ্রপুর, মাস্টারবাড়ি, মাওনা চৌরাস্তা ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কোনাবাড়ি, কালিয়াকৈর, চান্দরা বাস স্টপেজে ঈদে ঘরমুখী মানুষের ভিড় রয়েছে। কোথাও কোথাও হেঁটে চলছে গাড়ি। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দীর্ঘক্ষণ যানজটে থাকা পরিবহন চালকরা জানান, শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে যানজটের আধিক্য বেড়েছে। এক ঘণ্টার রাস্তা তাদের যেতে হচ্ছে ৩ ঘন্টায়। গাজীপুরের কোনাবাড়ি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম খান জানান, যানজট নিরসনে পুলিশ সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছে। ঈদ উপলক্ষে যানবাহন ও যাত্রীর সংখ্যা বেশি থাকায় যানজটের মাত্রা বেড়েছে।

Loading...