সাড়ে ছয়শ চলচ্চিত্রের অভিনেতা আমির সিরাজী

0 1,403

তিনি আমির সিরাজী, একজন মুক্তিযোদ্ধা। পাশাপাশি একজন দর্শক সমাদৃত চলচ্চিত্র অভিনেতা। মুক্তিযুদ্ধেও ১১ নং সেক্টরের অধীনে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৮৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সাড়ে ছয়শো চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। একজন চরিত্র অভিনেতা হিসেবে আমির সিরাজী নিজেকে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে গেছেন যেখানে তার চরিত্রগুলোর বিকল্প আর কেউই হতে পারেননি। ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের ছেলে ১৯৮৪ সালে নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে চলেচ্চিত্রে আসার আগে বাংলাদেশের প্রতিথযশা দশটি যাত্রা দলের হয়ে যাত্রায় অভিনয় করেছেন। খুলনায় বাবুল অপেরার যাত্রায় অংশগ্রহণের সময় চোখে পড়ে ‘চিত্রালী’তে নতুন মুখের সন্ধানের বিজ্ঞাপন।

আবেদন করেন তিনিও। আর এভাবেই যেন ঘুরে যায় আমির সিরাজীর ভাগ্যের চাকা। ১৯৭৩ সালে গফরগাঁও ডিগ্রি কলেজ থেকে ডিগ্রি সম্পন্ন করা আমির সিরাজী প্রথম অভিনয় করেন ইবনে মিজান পরিচালিত ‘পাতাল বিজয়’ চলচ্চিত্রে। তবে তার মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র ছিল মতিন রহমান পরিচালিত ‘রাধা কৃষ্ণ’। চলচ্চিত্রটি ১৯৮৫ সালের ৫ জানুয়ারি মুক্তি পায়। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি নিরলসভাবে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেই যাচ্ছেন। অভিনয়ে আমির সিরাজীর গুরু প্রখ্যাত যাত্রা শিল্পী স্বর্গীয় কুমার ভানু পোদ্দার। চলচ্চিত্রে নিজেকে অভিনয়ে সিদ্ধহস্ত করেছেন প্রয়াত অভিনেতা গোলাম মুস্তাফার কাছে। আমির সিরাজী ১৯৯১ সালে বিটিভির তালিকাভুক্ত শিল্পী হন।

তবে নাটকে তার খুব বেশি অভিনয় করা হয়ে উঠেনি। বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের পাশাপাশি সরকারি অনুদানের চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন তিনি। সেগুলো হচ্ছে চাষী নজরুল ইসলামের ‘মেঘের পরে মেঘ’, পিএ কাজলের ‘মুক্তি’ ও ফারুকের ‘কাকতাড়–য়া’। আমির সিরাজী অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র মাসুদ আজাদের ‘আই এম রাজ’। এছাড়া এই মুহূর্তে তিনি অভিনয় করছেন শামীম আহমেদ রনির ‘মেন্টাল’, এম এ মতিনের ‘গ্রামের মেয়ে শহরের পোলা’, ওমর ফারুকের ‘লাভার বয়’ চলচ্চিত্রে। আমির সিরাজী বলেন, ’ দর্শকের ভালোবাসায় আজ আমি আমির সিরাজী হতে পেরেছি। আজীবন দর্শকের ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকতে চাই। আমি আমৃত্যু অভিনয় করতে চাই। চাই সকলের সহযোগিতা।’ আমির সিরাজীর স্ত্রী মিসেস হেনা সিরাজ। তার দুই ছেলে হাবিব সিরাজী বাবু ও ফয়েজ সিরাজী ডলার। তার দুই মেয়ে নূরজাহান সিরাজী ববি ও নূরনাহার সিরাজী ইতি।

Loading...