শেরপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় মিল মালিক সমিতির সম্পাদক আহত

হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

0 66

।। বিজয় বাংলা বিডি ।।  বগুড়ার শেরপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় সেমি অটো রাইস মিল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম (৪৫) আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ওই ব্যবসায়ী নেতা স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরে উক্ত ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতার দাবিতে দাবিতে প্রতিবাদসভা ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। রোববার ( ২৮জুন ) বিকেলে উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের শেরুয়া বটতলা বাজার এলাকায় মিল মালিক সমিতির ব্যানারে অনুষ্ঠিত ওই কর্মসূচিতে স্থানীয় এমপির পুত্র ও ধুনট উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল সনি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণীপেশার মানুষ অংশ নেন। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সেমি অটো রাইস মিল মালিক সমিতির সভাপতি আবু তালেব আকন্দ।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তারা বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে উক্ত ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় মহাসড়ক অবরোধসহ নানা কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুশিয়ারী উচ্চারণ করা হয়। জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরধরে গত রোববার (২৮জুন) সকাল নয়টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজনের হামলায় মিল মালিক সমিতির নেতা সিরাজুল ইসলাম গুরুতর আহত হন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, শেরুয়া মৌজায় শামীম নামে এক ব্যক্তির নিকট থেকে ৬৯শতক জমি কিনেন। এরমধ্যে ছয় শতক জমি দখল বুঝে দিতে ব্যর্থ হন। বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে বেশ কয়েকদফা কথা বলা হয়। কিন্তু জমি বুঝে দিতে টালবাহানা করতে থাকে। একপর্যায়ে শুক্রবার সকালে ভূমি জরিপকারীর মাধ্যমে জমি মাপ দিয়ে বুঝে দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি তা না করে ভাড়াটে লোকজন এনে তার ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এমনকি বেধড়ক মারপিট করে তার মাথা ফেটে দেয়া হয়।

এসময় আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মো. সাগর এগিয়ে এলে তাকেও মারপিট করা হয় বলে দাবি করেন। পরে ঘটনার রাতেই তার ছেলে নজরুল ইসলাম লিটন বাদি হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০জনকে অভিযুক্ত করে থানায় একটি এজাহার দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। তবে এই সংবাদটি লেখা পর্যন্ত এজাহারটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়নি। এদিকে এ ঘটনায় অভিযুক্তদের পক্ষ থেকেও থানায় পাল্টা অভিযোগ দেয়া হয়েছে। মঈন উদ্দীন তালুকদারের দেয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম ও তার লোকজন জোরপূর্বক তার মায়ের জমি দখলে নিতে যান। খবর পেয়ে তারা সেখানে গিয়ে আপোষ-রফার চেষ্টা করেন। কিন্তু আগে থেকেই ওঁৎপেতে থাকা লোকজন তাদেরকেই মারপিট করেন এবং চারটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এসএম আবুল কালাম আজাদ বলেন, মারামারির খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিলো। তারা উভয়পক্ষকে শান্ত করেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এছাড়া এই ঘটনায় উভয়পক্ষের লোকজন পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে। তদন্তপূর্বক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Loading...