রাজারহাটে মধ্যবিত্তদের বোবা কান্না, দেখার কেউ নেই!

কার কান্না কে কাঁদেরে, ভাই নিজের কান্না নিজেকেই কাঁদে হয়

0 83
 ।। এ.এস.লিমন, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি ।।
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে মহামারি করোনা কোভিড -১৯, ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সবকিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন এবং গৃহবন্দী হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ, তার উপর লকডাউন তো আছেই। এতে করে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে মধ্যবিত্ত সাংবাদিকদের ও গৃহবন্দী হয়ে পরা মধ্যবিত্ত মানুষগুলোর।
রাজারহাট উপজেলার সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘুরছে এখান থেকে ওখানে। আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ। কিন্তু বন্ধ হয়নি তাদের ব্যয়ের পথ। তাই মধ্যবিত্ত সাংবাদিকদের বোবা কান্না আর দীর্ঘশ্বাস ছাড়া তাদের কিছুই বলার নেই। তাদের কিছু টাকা জমানো ছিলো তাও শেষ, অপরদিকে আবার রমজান মাস শুরু। সাধারণত রমজান মাসে অন্যসব মাসের তুলনায় সংসারের খরচটা একটু বেশী। এভাবে চলতে থাকলে করোনায় নয়, না খেয়েই মরতে হবে সাংবাদিকদেরও । তারা লাজ- লজ্জায় কারণে কারো নিকট সাহায্য চাইতে পারছেন না।
এই মধ্যবিত্তদের কাছে পেটের ক্ষুধার চেয়ে নিজেদের আত্মসম্মানটাই বড়। এরা না পারে ভিক্ষা করে খেতে আর না পারে অন্যের হক মেরে খেতে কিংবা কারো কাছে চেয়ে খেতে। ন্যায়-নীতি, সততা, আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচা এই মধ্যবিত্তরা আজকে মোটেও ভালো নেই। এদের এখন মাথায় হাত। না পারছে বলতে, না পারছে সইতে। এমন অবস্থায় কি করবে, কি করা উচিত হবে ভেবে উঠতে পারছেনা এরা।
মাস শেষে এমনিতেই মধ্যবিত্তদের হাতে টাকা পয়সা থাকে না আর লক ডাউনের এই সময়ে আরো বাজে পরিস্থিতিতে আছে তারা। কিছু দিন পরই তাদের ঘরের খাবার শেষ হয়ে যাবে হয়তোবা কারোর শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তাতে কি, তারা তো হাত পাতারও মানুষ না। আরো কিছু দিন ডাল-ভাত খেয়ে বাঁচবে তবুও কারোর কাছে হাত পাতবেনা। কিন্তু তারপর! তারপর আর কি, আল্লাহ ভালো জানেন।
এই মধ্যবিত্তরা চাইলেও ১/২ মাস উপার্জন না করে চলতে পারবেনা। আবার নিন্মবিত্ত বা গরীবদের মত অন্যের কাছে হাতও পাততে জানেনা। পারেনা লাইনে দাড়িয়ে কিছু আনতে। এই শ্রেণীটার লজ্জাবোধ সবসময়ই বেশি। নৈতিক মূলবোধ, আদর্শ কিংবা সামাজিক কারনে সবসময়ই নিজেদের গুটিয়ে রাখে এরা।
মধ্যবিত্তদের মধ্যে এমন অনেকে আছে যারা দিন আনে দিন খায়, যাদের নিজেদের একটা ব্যবসা আছে অথবা যারা কর্মচারী হিসেবে চাকরি করে। করোনার এই সংকটের সময়ে তাদের সকল প্রকার আয় বন্ধ। কিন্তু আয় বন্ধ হলে কি হবে, খরচ ঠিকই হচ্ছে তার গতিতে। বাজার খরচ, ওষুধের খরচ, বাসা-ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, এসব মিলিয়ে প্রতিদিন খরচ তার নিজ গতিতে ঠিকই হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক সাংবাদিক জানায়, চার সদস্যের সংসার তার। প্রতি মাসে তার ১০-১২ হাজার টাকা আয় হতো। তা দিয়ে ছেলে-মেয়েদের স্কুলের খরচ, টিউশন ফিসহ সাংসারিক খরচ করে মোটামুটি বেশ ভালো ভাবেই চলছিলো তাদের সংসার। এই করোনার মহামারীতে প্রায় একমাস থেকে তার কোনো আয় নেই আছে শুধু ব্যয়। তিনি অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, কার কান্না কে কাঁদেরে, ভাই নিজের কান্না নিজেকেই কাঁদে হয়। এ দেশে সাংবাদিকদেরকে দেখার মত কেউ নেই।
বিপনী বিতান দোকানের এক কর্মচারী বেশ আক্ষেপ নিয়ে বলেন, বড়োলোকের টাকা আছে, গরীবরা ত্রাণ পাচ্ছে আর মধ্যবিত্তরা না খেয়ে মুখ লুকিয়ে নীরবে চোখের জল ফেলছে। তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে আরো বলেন, ভাই আমি একজন বাবা, আমি না হয়, না খেয়ে থাকতে পারবো বা তিন বেলার জায়গায় দু বেলা খাচ্ছি, কিন্তু ছেলে মেয়েদের দিকে তাকালে বুকটা ফেটে কান্না আসে।
এই সময়ে রাজারহাট উপজেলার উচ্চবিত্তরা আল্লাহর রহমতে ভালোই আছেন, কারণ তাদের কোন অভাব নেই এবং কোন প্রকার টেনশন নেই। আর গরীবরা পাচ্ছে সরকারী- বেসরকারী বিভিন্ন সংগঠনের বরাদ্দকৃত ত্রাণ বা উপহার সামগ্রী এবং আর্থিক অনুদান। তবে সমস্যা হল মধ্যবিত্ত শ্রেনীর সাংবাদিক ও আন্যান্য পরিবারগুলোর, তাদের নেই ব্যাংক ব্যালেন্স বা জমানো অর্থ আবার ঘরে খাবার না থাকলেও তারা  লজ্জায় কিছু বলতে পারছেনা, তাই তারা মুখ থুবড়ে পরে আছে।
দেশের প্রধানমন্ত্রী গরীব অসহায় এবং বড়লোক সহ গার্মেন্টস শ্রমিকদের জন্যও প্রণোদনা ঘোষনা করেছেন। এসব উদ্যোগ অব্যশই প্রশংসনীয়। কিন্তু  সাংবাদিক ও মধ্যবিত্তরা? এখানে ও তাদের কে করা হয়েছে বঞ্চিত। তাই এদের মুখ থুবড়ে হাহাকার আর মৃত্যু ছাড়া কোন পথ নেই!
Loading...