বাঁশের সাঁকো টিও ভেঙ্গে যাওয়ায় ৮ গ্রামের মানুষের চরম দূর্ভোগে

0 369

সারওয়ার আলম মুকুল, কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি ঃ কাউনিয়ার পূর্ব চড় নাজিরদহ গ্রামের মরা তিস্তা নদীর খলিলের ঘাটে একটি পাকা ব্রীজের অভাবে ৮ গ্রামের মানুষের দূর্ভোগের সীমা নেই। এছাড়াও শষ্য ভান্ডার খ্যাত এলাকার কৃষি পণ্য পরিবহনে কৃষকদের চরম ভোগান্তিতে পরতে হয় এবং ফসলের ন্যায মূল্যে থেকে বঞ্চিত হয় চাষীরা।
চীনের দুঃখ হোয়াং হো আর চরাঞ্চলের ৮ গ্রামের মানুষের দুঃখ হচ্ছে মরা তিস্তার এ শাখা নদীটি। হারাগাছ পৌর সভার পাশ দিয়ে হারাগাছ ইউনিয়ন, শহীদবাগ ইউনিয়নের ভিতর দিয়ে তিস্তা রেল ও সড়ক সেতু পয়েন্টে গিয়ে মিলিত হয়েছে সতী নদীটি। বর্ষা মৌসুমে নৌকা বা বাঁশের সাকোই এলাকাবাসীর ভরসা আর শুকনা মৌসুমে নদীর বুক চিরে পায়ে হেটে চলাচল করে এলাকাবাসী।

হারাগাছ ও শহীদবাগ ইউনিয়নের সীমান্তে খলিলের ঘাট নামক স্থানে পাকা ব্রীজ নির্মাণের দীর্ঘদিনের দাবী এলাকাবাসীর। ওই স্থানে ব্রীজ না থাকায় চড় নাজিরদহ, পল্লীমারী, চাংড়া, খলাইঘাট, ঠিকানার হাট, পাগলার হাট, প্রাননাথ চড় ও সাব্দী গ্রামের স্কুল কলেজ মাদ্রাসা গামী শিক্ষার্থীসহ প্রায় অর্থ লক্ষাধিক মানুষ উপজেলা সদর সহ বিভিন্ন হাট বাজারে যাতায়ত করে। ওই ৮ গ্রাম এলাকায় শষ্য ভান্ডার হিসেবে বেশ পরিচিত। এ গ্রাম গুলোতে ব্যাপক হারে আলু, ভুট্রা, ধান, পাট, রসুন, পিঁয়াজ, বাদাম, খিরা, শষাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন হয়ে থাকে। এসব কৃষি পণ্য হাট বাজারে নিতে হলে প্রায় ১০ কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে তকিপল হাট, ৭ কিলোমিটার ঘুরে খানসামা হাট ও ১২ কিলোমিটার ঘুরে মীরবাগ হাটে যেতে হয়। অথচ খলিলের ঘাটে পাকা সেতু নির্মাণ হলে অর্ধেক করে পথ কমে আসবে সেই সাথে এলাকার কৃষকরা পাবে তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্যে। ওই এলাকার মানুষ নৌকায় পারাপাড়ে দূর্ভোগ কমাতে গত বছর বর্ষা মৌসুমে স্বেচ্ছা শ্রমের ভিত্তিতে বাঁশ উত্তোলন করে একটি বাশেঁর সাকো নির্মাণ করে চলাচল করে। কিন্তু মেরামতের অভাবে সেই বাঁশের সাকোঁটি ভেঙ্গে যাওয়ায় এলাকাবাসী এক রকম অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বার রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কেউই এগিয়ে আসছে না।

চাংড়া গ্রামের বাসিন্দা শিক্ষক মঈনুল ইসলাম জানায়, এখানে একটি পাকা ব্রীজ নির্মাণ করা হবে এ কথা বহুদিন ধরে শুনে আসছি, ব্রীজ নির্মানের স্থানটি ইউপি চেয়ারম্যান সাহেব পরিদর্শনে এসেছিল বহুবার কিন্তু ব্রীজ নির্মাণের কোন আলামত দৃর্শ্যমান নয়। কয়েক মাস আগে শুনলাম এবার ব্রীজ হবেই হবে এজন্য কেউ বাঁশের সাকোঁটিও মেরামতের উদ্দ্যোগ নিলনা তাই আমাদের ১০ কিলো রাস্তা ঘুরে উপজেলা সদরে যেতে হচ্ছে। এ ছাড়াও হারাগাছ ও শহীদবাগ ইউনিয়নের সীমান্তে ব্রীজ নির্মাণের স্থানটি হওয়ায় দুই চেয়ারম্যানের রশি টানাটানিতে ব্রীজ নির্মাণ উদ্দ্যোগ ভেস্তে যাচ্ছে। হারাগাছ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রকিবুল হাসান পলাশ বলেন শহীদবাগ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আঃ হান্নান সাহেবের সাথে স্বমন্বয় করে ব্রীজ নির্মাণের প্রস্তাব পঠানো হয়েছে বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু করা হবে।

Loading...