পানি বৃদ্ধির ফলে তলিয়ে যাচ্ছে কুড়িগ্রামের বিস্তৃর্ণ এলাকা

0 111
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি  : কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। প্রতি ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। শনিবার সন্ধ্যা ছয়টায় ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৫১ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র নদের চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৪৬ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৩১ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৫১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সেখানে ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে
 রোববার (২৭ জুন) সকাল ৬টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার বেড়ে ৬৪ সেন্টিমিটার এবং নুনখাওয়া পয়েন্টে ১৯ সেন্টিমিটার বেড়ে ৫০ সেন্টিমিটার এবং ধরলা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার বেড়ে ৬২ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া দুধকুমার, গংগাধর, সংকোষসহ তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।ফলে বন্যার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে বিস্তৃর্ণ এলাকা।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানায়, ধরলা নদীর পানি স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তবে আগামী তিনদিন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। এসময় জেলায় এক সপ্তাহ স্থায়ী একটি বন্যা হবে।
এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার ৪২টি ইউনিয়নে পানি প্রবেশ করেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে দেড় লক্ষাধিক মানুষ। তলিয়ে গেছে ১ হাজার ৬৯২ হেক্টর জমির আউশ, পাট, ভুট্টা, কাউন, চিনা বাদাম ও শাকসবজির ক্ষেত। এছাড়াও নদী ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়েছে প্রায় ২ শতাধিক পরিবার।
সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চরযাত্রাপুর এলাকার অধিকাংশ বাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করছে। করোনার কারণে এমনিতেই কাজকর্ম নেই, তার উপর বন্যার আঘাতে বিপর্যস্ত হয়ে পরেছে বানভাসিরা। এই গ্রামের আবুল হোসেন ও মোজাম্মেল হক জানান, চরের আবাদ সব নষ্ট হয়ে গেছে। বাড়ির চারপাশে যারা সবজি লাগিয়েছেন সেগুলো এখন পানিতে তলিয়ে গেছে।
  ফুলবাড়ী উপজেলায় কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত ও উজানের পাহাড়ি ঢলে ধরলা নদীর পানি বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া অব্যাহত রয়েছে  নীলকমল ও বারোমাসিয়া নদীর পানি বৃদ্ধি। ইতিমধ্যে  বারোমাসিয়া ও ধরলার তীরবর্তী চরাঞ্চলের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার  বড়ভিটা ইউনিয়নের চরধনীরাম এলাকায় ২শতাধিক পরিবার, ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নে খোচাবাড়ী ও রাঙ্গামাটি এলাকায় ৭ শতাধিক পরিবার,   ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের প্রাণকৃষ্ণ এলাকায় দেড়শতাধিক পরিবার, শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের চর-জতিন্দ্র নারায়ণ ৭০, চর-সোনাইকাজী ৮০ ও সোনাইকাজী এলাকার শতাধিক পরিবারসহ চার ইউনিয়নে প্রায় দেড় হাজার পরিবার পানি বন্দি হয়ে পড়েছে। ডুবে গেছে  ভুট্টা, পাট, সবজি ক্ষেত, বিভিন্ন বীজতলা ও আউশ ধান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান জানান, ধরলার তীরবর্তী মানুষদের খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রতিটি এলাকায় পানিবন্ধী পরিবারগুলোর তালিকা করে জেলায় পাঠানো হচ্ছে। তারপরেও প্রতিটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। অাশা করছি অাজ কালের মধ্যে পানিবন্দি পরিবারগুলোর মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হবে।
কুড়িগ্রাম জেলার নাগেশ্বরী উপজেলায় বন্যার চরম অবনতি হয়েছে। উপজেলার নারায়নপুর, ভিতরবন্দ,বেরুবাড়ী,বল্লভের -খাষ, নুনখাওয়া ইউনিয়নের বন্যার পানিতে মানুষ দিশেহারা হয়ে পরেছে।
নারায়নপুরের কালারচর,পদ্মারচর,কাটগিরাই ও কামারেরচর নুনখাওয়ার কালিকাপুর এলাকায় ভয়াবহ বন্যায় মানুষের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠেছে।এলাকার অসহায়, দরিদ্র মানুষজন অনাহারে অর্ধাহারে দিন যাপন করছে। বিশেষ করে গবাদিপশু ও গৃহপালিত পশু  নিয়ে বিপদে পড়েছে। গবাদিপশুর খাবার সহ মানুষের খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে।
নুনখাওয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সাহাবুল হোসাইন জানায় ৪/৫টি ওয়ার্ড প্লাবিত হয়েছে। এখন পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসন কোন খবর নেয়নি।
নারায়নপুরের ইউপি চেয়রম্যান মজিবর রহমান জানায় অামার ইউনিয়নের প্রায় ২/৩ হাজার বাড়ী প্লাবিত হয়েছে। এ অবস্থায় অাজ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাত্র ৮ টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে,  এটা খুব সামান্য।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার নুর মোহাম্মদ মাসুম বলেন বন্যা মোকাবেলার জন্য পর্যাপ্ত চাল সহ নৌকা,সেনিটেশন,ঔষধ, সহ বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা অাছে, এছারাও  অাজকেই বন্যাকবলিত এলাকার জন্য ৬০মেট্টিকটন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এদিকে প্রচণ্ড নদী ভাঙনের মুখে পরেছে উলিপুর উপজেলার হাতিয়া, থেতরাই, বুড়াবুড়ি, বেগমগঞ্জ এলাকার মানুষ। ভাঙছে রৌমারীর কর্ত্তিমারী, চিলমারীর নয়ারহাট, কুড়িগ্রাম সদরের মোগলবাসা ও সারডোব এলাকায়। গত এক সপ্তাহের ভাঙনে বিভিন্ন উপজেলা মিলিয়ে প্রায় ২ শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে গেছে।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, ভাঙন কবলিতদের সরিয়ে আনতে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসন। এছাড়াও শুক্রবার ভাঙন কবলিত উপজেলাগুলোতে ৩০২ মেট্রিক টন চাল ও ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে।
Loading...