নিজেকে শাহরুখ খান ভাবলে হবে না, তাঁর আদর্শও ধারণ করতে হবে

0 79

বছর পাঁচেক আগে আপনার অভিনীত একটি ছবির শুটিংয়ে আমিনুল নামে একজন স্টান্টম্যান আহত হয়েছিলেন। এই অচলাবস্থার মধ্যে তিনি আর্থিক সংকটে পড়েছেন। আপনি নাকি তাঁর দায়িত্ব নিয়েছেন?

আহত হওয়ার পর থেকে তিনি পাবনায় থাকেন। তাঁর বর্তমান অবস্থা জানার পর আমি ফোন দিয়েছিলাম তাঁকে। তবে এটি ভুল কথা, আমি তাঁর দায়িত্ব নিইনি। একা কোনো দায়িত্ব নেওয়া যায় না, সম্মিলিতভাবে নিতে হবে। আমি আমার সাধ্যমতো তাঁকে সহযোগিতা করার জন্য ফোন করেছিলাম। তিনি খুব খুশি হয়েছেন।


অনেকই ধারণা করছেন, সামনে মহামারি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এতে খাবার সংকট তৈরি হতে পারে। নিম্ন মধ্যবিত্তের মানুষগুলো আরও বেশি বিপদে পড়তে পারেন। সেই ক্ষেত্রে তারকারাদের করণীয় কী হতে পারে?
দেশের মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। সরকার করছেই, পাশাপাশি দেশের ব্যবসায়ী-শিল্পপতিদের এগিয়ে আসতে হবে। ইতিমধ্যে বড় বড় প্রতিষ্ঠান হাত বাড়িয়েছে। পাশের দেশ ভারতে বলিউডের সালমান খান, আমির খান, শাহরুখ খানরা বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে সরকারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। বাংলাদেশেও বড় তারকা আছেন। এই দুর্যোগে তাঁদের দেখছি না। নিজেকে সালমান খান, শাহরুখ খান ভাবলে হবে না, তাঁদের আদর্শও ভেতরে ধারণ করতে হবে।

আপনার কী অবস্থা?
ভয়াবহ আতঙ্কে আছি। কারণ এই রোগ পৃথিবীজুড়ে মানবিক বিপর্যয় ডেকে এনেছে। এই রোগ কারও হলে তাঁর কাছে আপনজন যেতে পারছে না, মৃত্যু হলে জানাজা, দাফনে মানুষ অংশ নিতে পারছে না। এমন দুর্যোগ আগে দেখিনি, শুনিওনি। প্রতিদিনই দেশে দেশে রোগীর সংখ্যা, মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

করোনা ভাইরাস সচেতনতায় কী করছেন?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সরকারের সব ধরনের নির্দেশনা মেনে চলছি। এই রোগের মূল ওষুধ ঘরে অবস্থান করা। দীর্ঘদিন ধরে ঘরেই থাকছি। আমার পরিবারের সদস্যদেরও নিরাপদে রাখার চেষ্টা করছি। এখনো যাঁরা নিয়ম মানছেন না, তাঁদের বলি, আমাদের মতো দেশে এই রোগের বিস্তার বাড়লে মানুষকে বাঁচানো যাবে না। তাই নিয়ম মেনে ঘরে থাকুন, নিজের পরিবারকে নিরাপদে রাখতে পারবেন, দেশকেও।

দিন কীভাবে শুরু হয়?
বাসায় একজন গৃহকর্মী আছেন, তাঁকে নিয়ে সকালে উঠে ঘরের কাজ শুরু করি। পরিবারের সবার জন্য খাবার প্রস্তুত করি। ঘরে আমার দুই সন্তান আছে। এক ছেলে জয়, আরেকজন মেয়ে—আমার ‘মা’। তাঁদের জন্য একটু আলাদা খাবার বানাতে হয়।

বাকি সময় কীভাবে কাটে?
বই পড়ি। জয় জন্মের আগে থেকে বই পড়ার অভ্যাস তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া প্রচুর সিনেমা দেখছি। ফাঁকে ফাঁকে লুডুও খেলি।

আপনার ছেলে আব্রাম খান জয় কেমন আছে?
ভালো। ওর স্কুল বন্ধ। তবে বাসায় পড়াশোনা চালিয়ে নিচ্ছি। মজার ব্যাপার হলো, এই ছুটিতে ওর মাথার চুল ফেলে দিয়েছি। একেবারেই ন্যাড়া করা হয়েছে। আমি নিজ হাতেই ছেলের চুল কেটেছি।

জয়ের বাবা শাকিব খান কি সন্তানের খোঁজখবর রাখছেন?
না, তিনি কোনো খোঁজ খবর রাখেন না। শুধু তাই-ই না, গত এক-দেড় বছরে ছেলের কোনো খরচও বহন করেন না তিনি।

নতুন করে আবার জীবন শুরু করবেন কবে?
এসব বিষয়ে অস্থির হওয়া যাবে না। অবশ্যই নতুন করে জীবন শুরু করতে চাই, করব। তবে হুট করে না, সময় বলে দেবে।

Loading...