টাকার জন্য নির্যাতন, দেশে ফিরতে চায় ভিয়েতনামের প্রবাসীরা

0 8

আমাকে সাত দিন ধরে পিটিয়েছে। পিটানোর সময় আমি বারবার অজ্ঞান হয়ে যেতাম আবার যখন জ্ঞান ফিরে আসত তখন আবারও পেটাতো। বাড়িঘর যা আছে বিক্রি করে টাকা দিয়েছি। এখন না টাকা দিলে আমাকে কেটে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে বলে জানিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এমন একটি ভিডিওতে এসব কথা বলছিলেন সিলেটের সুমন নামে এক প্রবাসী। তার ওপর করা নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে সরকারের কাছে দেশে ফেরা আকুতি জানান তিনি। ভিয়েতনামে কাজ করতে যাওয়া একদল প্রবাসীরা মানব পাচারের শিকার হয়েছে। টাকার জন্য নির্যাতনের মুখে তারা এখন দেশে ফিরতে চান। সরকারকে অনুরোধ করে এমন একটি ভিডিও করেছে তারা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান বলেছেন ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সত্য। ভিডিওতে দেখা যায়, সিলেট এলাকার সুমন নামে এক ব্যক্তি তিনি বলেন, আমি এক বছর ধরে ভিয়েতনামে এসেছি। আমি ভিয়েতনামে আসার পর যত টাকা ইনকাম করেছি, আমাকে যারা এনেছে তারা সব নিয়ে নিয়েছে। আমি দেশ থেকে টাকা নিয়ে এসে এখানে চলি। আমাকে মেরে দেশ থেকে টাকা নিয়ে আসায় তারা। একবার নিয়ে এসেছে ৫০ হাজার টাকা। আর একবার নিয়েছে ৪০ হাজার টাকা। তারপরে নিয়েছে ৩০ হাজার টাকা।

সুমন বলেন, আমি শেষ বার বলেছি আমি বাড়ি বিক্রি করে, গরু বাছুর বিক্রি করে, টাকা নিয়ে এসেছি। আমি আর টাকা নিয়ে আসতে পারবো না। আমাকে প্লেনের টিকিট কেটে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দাও। তারপর আমাকে পাঁচ জনে মিলে মেরেছে। অনেক মার দিয়েছে, আমি অজ্ঞান হয়ে গিয়েছি। আবার যখন জ্ঞান ফিরে আসে তখন আবার মারা শুরু করে। শেষ পর্যায়ে তারা আমাকে ছাদে বেঁধে রেখেছে। তারা বলে তুই টাকা না নিয়ে আসলে তোকে মারতেই থাকবো। তোকে কেটে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিব। কিন্তু আমি আর টাকা দেয়ার কথা রাজি হতে পারিনি। আমাকে সাতদিন ধরে মেরেছে।
ভিডিওতে ওই যুবককে শুনতে বলা যায়, সাইফুল এবং আকরাম নামে দুই যুবক তাকে সবচেয়ে বেশি মেরেছে। সেখানে অবস্থানরত আরো প্রবাসীরাও বলে আমাদের অবস্থা এখানে খুবই খারাপ। আমরা সরকারকে অনুরোধ করি আমাদের এখান থেকে বাঁচিয়ে নিয়ে যান। আমরা দেশে ফিরতে চাই।

Loading...