গ্রাম বাংলার আদী ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে আলোর দিশারী ”হারিকেন“

0 20

মো: মামুনর রশিদ, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ঃ কালের পরিবর্তন, যুগের পরিবর্তন, সভ্যতার বিবর্তন, গ্রাম বাংলার আদী ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে সেকালের আলোর দিশারী ঐতিহ্যবাহী সেই ”হারিকেন“। আবহমান বাংলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল গুলোতে সে কালে ছিলো না কোন বিদ্যুৎতের আলো, ছিলো না কোন আধুনিক বিজ্ঞানের ছোঁয়া। ঢাকার কামরাঙ্গীরচরের আশ্রাফাবাদ এলাকায় ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় হারিকেন কারখানা নিউ তাজ কিং ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রাইভেট) লিমিটেড। এক সময়কার অত্যান্ত জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত ‘তাজ হারিকেন’ এখানেই উৎপাদিত হয়। তবে তাজের জৌলুস আর নেই। গ্রাম-গঞ্জে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে, শহরে লোডশেডিং কমেছে। তাই কমেছে হারিকেনের কদর। আগে এই কারখানায় কাজ করতেন প্রায় ৪০০ শ্রমিক। এখন সেখানে কাজ করেন ১০০ জনের মতো। আগে বাংলাদেশ সবখানে পাওয়া যেত তাজ হারিকেন।

দেশের চাহিদা পূরণ করে দেশের বাইরেও রপ্তানি হতো। প্রতিটি হারিকেনের পাইকারি দাম ১৩০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা পর্যন্ত। হারিকেনের আলোতেই গ্রামাঞ্চল গুলো আলোকিত হত। গ্রামের, পাড়া-মহল্লার ছাত্র-ছাত্রীদের জ্ঞানের আলো বিকশিত হত এই আদী আলোর দিশারী হারিকেনের মাধ্যমে। আগের যুগের মানুষের ঘরে ঘরে কোন টিভি ছিলো না? পুরো গ্রাম মিলে একটা টেলিভিশন ছিলো। সেই টেলিভিশনে দেশের খবর দেখার জন্য রাতের আধাঁরে হারিকেন নিয়ে এলাকার মানুষ খবর দেখে আসত। সন্ধ্যা নেমে আসলেই গ্রামের পরিবার গুলোর মধ্যে হারিকেনের ব্যবহারের কদর নেমে আসত। হারিকেনের চিকনি পরিস্কার আছে কিনা ও হারিকেনে প্রয়োজনীয় তেল আছে কিনা তা পূর্বেই পরীক্ষা করে নেয়া হত। যেন সন্ধ্যার পরে আর এগুলো নিয়ে কোন ঝামেলায় পড়তে না হয়। এলাকার বিভিন্ন হাট বাজার ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্টান গুলোতে রাত্রি কালিন নৈশ প্রহরীদের একমাত্র ভরসা ছিল হারিকেন। ডাক পিয়নরা হারিকেন হাতে নিয়ে হেকে চলত তাদের গন্তব্যে। যুগের পরিবর্তনের সাথে সাথেই সব কিছুরই পরিবর্তন ঘটেছে। গ্রামের পর গ্রাম এখন বিদ্যুতের আলোতে আলোকিত। বিদ্যুতের ঝলকানিতে অজ পাড়া গ্রাম গুলো এখন পল্লী শহরে রুপান্তরিত হয়েছে। কাজেই সেকালের ঐতিহ্যবাহী হারিকেনের আলোর প্রয়োজন আর প্রয়োজন হচ্ছে না। একারণে গ্রাম বাংলার আদী ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে আলোর দিশারী ‘হারিকেন’

Loading...