কাজিপুরে দুর্গম চরাঞ্চলে রাস্তা পেয়ে খুশি হাজার পরিবার

0 55

॥ টি এম কামাল, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে হাজার হাজার চরবাসির যাতায়াতের একমাত্র পায়ে হাটাঁ সরু রাস্তাটি ভেসে যায় গত বছরের বন্যায়। ওই রাস্তা ব্যবহারকারি দুইটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ পাশের খাসরাজবাড়ি ইউনিয়নের নৌঘাট পর্যন্ত চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়। তখন থেকেই চরবাসির দাবী ছিলো একটি রাস্তা নির্মাণের। সেই দাবী মেটাতে এ বছরের মে মাসে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে শুরু হয় নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের তৈমুরের বাড়ি থেকে উত্তরে নূরনবীর বাড়ি পর্যন্ত এক হাজার ফুট রাস্তার নির্মাণ কাজ।

কাজটির দেখভাল করছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস। স্থানীয়ভাবে কাজটি করেন নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতি আব্দুর রহিম সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে মাত্র নয় মে.টন গম বরাদ্দে শুরু হয় কাজ। নদীতে ড্রেজার বসিয়ে দূর থেকে বালি এনে চলে নির্মাণ কাজ। এদিকে যমুনার পানি বাড়ার সাথে সাথে অনিশ্চয়তায় পড়ে এই কাজ। অবশেষে বরাদ্দের জন্য অপেক্ষা না করে মাত্র কুড়ি দিনেই তিনি রাস্তার কাজ শেষ করেছেন।

আজ (২৮ জুন) সরেজমিন ওই রাস্তায় গিয়ে দেখে গেছে কৃষকেরা তাদের ভুট্টা, ধান নতুন রাস্তা দিয়ে ঘোড়ার গাড়িতে করে স্থানীয় হাটে নিয়ে যাচ্ছে। অনেকে এরই মধ্যে নতুন রাস্তার দুপাশে বালি ভরাট করে জায়গা উঁচু করছেন। জানতে চাইলে বালি ভরাটকারি রফিক মিয়া জানান, ‘এই রাস্তা আমাগোরে হাজার পরিবারের চইলবার পথ করে দিছে। এহোন নিজে এই রাস্তার পাশে বাড়ি করমু বলে জায়গা উঁচু করতাছি।’

নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি ও ঠিকাদার আব্দুর রহিম সরকার মাষ্টার জানান, ‘গতবারের বন্যায় এই রাস্তা ভেঙ্গে যাওয়ায় মানুষের ভোগান্তি নিজ চোখে দেখেছি। তাই এবার সুযোগ পেয়ে নিজের এলাকার কাজ বলে সাধ্যমতো চেষ্টা করে বর্ষা আসার আগেই শেষ করেছি। আশা করছি অতিরিক্ত ব্যয়িত টাকা কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করবেন। ’

কাজিপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা একেএম শাহা আলম মোল্লা জানান, ‘রাস্তাটি জনগুরুত্বপূর্ণ। রহিম সাহেব দ্রুততার সাথে মৌখিক আশ্বাসে বরাদ্দের বাইরেও কাজটি করেছেন। বরাদ্দ পেলে তার বাকি অর্থ পরিশোধ করা হবে।

Loading...